logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, শুক্রবার, জুন ২২, ২০১৮
মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ চাক জাল
মঠবাড়িয়ায় অবাধে পোনা নিধন
মো. শাহাদাৎ হোসেন, মঠবাড়িয়া

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাক জালের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে এ ধরনের জাল বেচাকেনা হয়। মঠবাড়িয়া পৌরশহরের বালুর মাঠ ও উপজেলার সাপলেজা, ধানীসাফা, মাছুয়া ও তুষখালী বাজারেও সপ্তাহে চাক বা বোডা জালের হাট বসে। সাধারণত চিংড়িসহ উপকূলে মিঠা পানিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ শিকারের জন্য কৃষক ও মৌসুমি জেলেদের কাছে এ জালের চাহিদা বেশি। যদিও মৎস্য বিভাগ কর্তৃক বাঁশের চাঁই ও চাকা বা বুচনা জালের ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হলেও দেশি মাছের নতুন ফাঁদ চাক বা বোডা জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকরী তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। ফলে উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার নতুন ফাঁদ বোডা বা চাক জালে এখন মাঠঘাট সয়লাব। কৃষিজমির জলাবদ্ধ মাঠে এ বোডা জাল পেতে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা উজাড় করা হচ্ছে। দামে সস্তা ও ব্যবহার খুব সহজ বলে উপকূলে মাছের এ নতুন ফাঁদের চাহিদা বাড়ছেই। জানা যায়, নাইলন সুতার জাল ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি হয় চাক জাল, বুচনা জাল বা বোডা জাল। চাকার মতো ঘোরানো যায় বলে এর নাম চাক জাল। তবে দেখতে বুচনা চাঁইয়ের মতো হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি বুচনা জাল নামেও পরিচিত। চাক জালের কারিগররা জানান, গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে ধানক্ষেত ও নালায় মাছশিকারিরা বাঁশের তৈরি চাঁই পেতে মাছ ধরতেন। এক দশক ধরে উপকূলীয় এলাকায় বাঁশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁইয়ের উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাছাড়া বাঁশের সংকটও রয়েছে। অন্যদিকে চাক জাল তৈরিতে খরচ কম। জাল তৈরির কাঁচামাল সহজলভ্য। তাই বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাক জাল। শুধু বাঁশের পরিবর্তে সুতার জাল ব্যবহার করে এ জাল তৈরি করা হয়। স্থানীয় কৃষকের নিজস্ব মেধা ও শ্রম দিয়ে উদ্ভাবিত এ জালের উৎপাদন খরচ ও দাম কম হওয়ায় চাক জালের চাহিদা বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মঠবাড়িয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী গ্রামসহ উপজেলার অর্ধশত কৃষক পরিবার বর্ষা মৌসুমে চাক জাল বা বোডা জাল তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন। অনেক কৃষক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাক জাল তৈরি করছেন। অবসরে নারী ও পুরুষরা ঘরে বসে চাক জাল তৈরি করেন। একজন প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনটি জাল তৈরি করতে পারেন। মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের চাক জাল বিক্রেতা দুলাল মুন্সী জানান, প্রতিদিন তারা কৃষি কাজের অবসরে চাক জাল তৈরি করেন। ঘরে বসে নারীরাও চাক জাল তৈরি করেন। প্রতি বুধবার হাটে ওই জাল বিক্রি করেন। বড় চাক জাল ৩০০ থেকে ৪০০, মাঝারি ২০০ থেকে ২৫০ ও ছোট ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিটি বড় চাক জাল বিক্রি করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা লাভ হয়। চাক জালের আরেক বিক্রেতা কালাম হাওলাদার বলেন, বাঁশের তৈরি চাঁইয়ের ব্যবহার কমে যাওয়ায় জেলেরা চাক জালের দিকে ঝুঁকেছেন। প্রতি হাটে ৫০০ থেকে ৭০০ চাক জাল বেচাকেনা হয়। হাটে জাল কিনতে আসা বলেশ্বর নদ-তীরবর্তী চড়কগাছিয়া গ্রামের মাছশিকারি আবদুল হক জানান, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ, শ্রাবণ ও ভাদ্রÑ এ চার মাসে চাক জাল বা বোডা জাল দিয়ে মিঠা পানিতে দেশি মাছ ধরা হয়। বর্ষা মৌসুমে ধানক্ষেতে ও ছোট নালায় প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ; বিশেষ করে চিংড়ি ধরা হয়। এ জাল সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে প্রচলন ঘটেছে। দামে সস্তা ও সহজে ব্যবহার করা যায়। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ বোডা জাল দিয়ে মাছ ধরে পুরো বর্ষা মৌসুমে গড়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, বোডা জাল, বুচনা জাল বা চাক জাল ও বাঁশের চাঁই দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছের পোনা বিনষ্ট হয়, যা দেশের মিঠা পানির দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের মাছের ফাঁদ ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ থেকে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]