logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮
আ.লীগের শক্ত ঘাঁটি দখল চায় বিএনপি

ষ ইয়ামিন আলী, বাগেরহাট            

 

ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১ আসন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াকে মধুমতি নদী চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলাকে পৃথক করেছে; কিন্তু যুগ যুগ ধরে গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এখানে প্রবহমান। স্বাধীনতার আগে ও পরে অধিকাংশ জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনেই এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। আসনটি পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি বা বিএনপি এ আসনে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে বার বার; কিন্তু আগামী নির্বাচনে এ আসনটি দখল করতে চায় বিএনপি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসন থেকে আওয়াম লীগের প্রার্থী এমএ খায়ের নির্বাচিত হন। এ সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ন্যাপ ভাসানীর প্রার্থী মুজিবুর রহমান। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এসএম লায়েকুজ্জামান বিএনপির সৈয়দ মোজাহিদুর  রহমানের কাছে পরাজিত হন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের এমএ খায়ের নির্বাচিত হন। ১৯৯১ আওয়ামী লীগের ডা. মোজাম্মেল হোসেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচনে তার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন এ আসনে নির্র্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি ফের নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা আবারও এ আসনে নির্বাচিত হন। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে শেখ হেলাল উদ্দিন বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আসনে শেখ হেলাল দল ও দলের বাইরে এক ধরনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বাগেরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুল আলম সানা বলেন, আমাদের নেতা শেখ হেলাল উদ্দিন বিশাল মনের অধিকারী। তার নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- চলছে। আমরা শেখ হাসিনার নির্দেশেই কাজ করছি। এবারও বিপুল ভোটে তিনি জয়লাভ করবেন। এদিকে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক খ্যাত বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। বিগত দিনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান একাধিকবার এ আসনে পরাজিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন করে জেলা বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুকে প্রার্থী করলে তিনিও পরাজিত হন। তবে তিনি এবারও এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রচেষ্টা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অ্যাডভোকেট দিপু এ বিষয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী সাধারণত আমাদের আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত থাকেন। ২০০৮ সালে আমি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়ে তার প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচন করেছি এবং মাইলফলক স্থাপন করা ৭০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছি। দলীয় ও ক্ষমতার প্রভাব, গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া সংযুক্ত এ আসনে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তারসহ অবস্থানগত কারণেই অঢেল পরিমাণ আর্থিক ব্যয়ের সঙ্গতিও তাদের বেশি। এ কারণে ওই আসনে নির্বাচন করা খুবই দুরূহ ও ব্যয়বহুল। এ আসনে দিপু একাই নন, চিতলমারী এলাকার বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন এবং রাজধানীর ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে। এমনকি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুজিবুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে। এছাড়া জাতীয় পার্টির আল যোবায়ের এখানে প্রার্থী হতে পারেন।
জানা গেছে, বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটে মূল বিভাজন এনে দেয় চিতলমারী উপজেলার সংখ্যালঘু ভোট। তাই স্থানীয়রা চিতলমারী উপজেলাকে বলে থাকেন ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক’। এ আসনের বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোর ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফকিরহাট উপজেলাটি অনেকটা বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি। এখানে বরাবর বিএনপি প্রার্থী বেশ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। আর ফকিরহাট-মোল্লাহাট মিলে সামান্য ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চিতলমারী উপজেলা কাস্টিং ভোটের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকেন নৌকার প্রার্থী। তাই বিরোধীদের এবারের বিশেষ টার্গেট যে চিতলমারী উপজেলার ভোটারদের দিকেই থাকবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]