logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮
ইউনূসের প্রতিষ্ঠানে মওকুফ ঋণ ফেরত নেবে সরকার
সজীব হোমরায়

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘প্যাকেজেস কর্পোরেশন’কে ১৮ বছর আগে মওকুফ করা ঋণের অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূসের পারিবারিক এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণের পুরো অর্থ মাফ করে দিয়েছিল। তাই এখন সুদাসলে ঋণের অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হবে ‘প্যাকেজেস কর্পোরেশন’কে। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করায় ওইসব প্রতিষ্ঠানে অডিটর নিয়োগ করতে পারে সরকার। এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে চলতি মাসের ২০ তারিখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ড. ইউনূসের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নামে পরিচিত ‘প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে’ ২০০০ সালে ৮৯ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে সুদসহ এ ঋণের পুরো অর্থ মওকুফ করে দেয় গ্রামীণ ব্যাংক। বর্তমানে এ অর্থের পরিমাণ সুদাসলে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অবৈধভাবে এ অর্থ মওকুফ করা হয়েছে। তাই সুদাসলে এ অর্থ গ্রামীণ ব্যাংককে ফেরত দিতে হবে। তবে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছেÑ ঋণের এ বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের দাবি মেনে না নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় আবার বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে; সরকারের উচিত, ঋণের অর্থ ফেরত পেতে গ্রামীণ ব্যাংককে নির্দেশনা প্রদান করা। এ বিষয়সহ গ্রামীণ ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর একটি সভার ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 
সূত্র জানায়, এ ঋণের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি না হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থায়নের গঠিত ‘স্পেশাল ভেঞ্চার ক্যাপটিল ফাউন্ডেশন (এসভিসিএফ)’ তহবিল থেকে প্যাকেজেস কর্পোরেশনের অনুকূলে স্টাডিজ, ইনোভেশন, ডেভেলপমেন্ট এবং এক্সপেরিমেনশন (এসআইডিই) প্রকল্পের উদ্দেশের বাইরে অবৈধভাবে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষুণœ হয়েছে। তাই এসভিসিএফ তহবিল যদি গ্রামীণ ব্যাংকে এখনও বিদ্যমান থাকে, তাহলে প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে ওই ঋণের মওকুফকৃত আসল পরিশোধে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে পারে। এ বিষয়ে সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করতে পারে। ২০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে আইনগত দিক নিয়েও আলোচনা করা হবে।
জানা গেছে, ১৯৬১ সালে পাকিস্তান প্যাকেজেস কর্পোরেশন নামে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন দুলা মিয়া সওদাগর (ড. ইউনূসের বাবা) ও তার ছেলেরা। ওই পরিবার এখনও প্রতিষ্ঠানটির মালিক। শেয়ারহোল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে মুহাম্মদ ইউনূস এখনও আছেন। গ্রামীণ ব্যাংক ও প্যাকেজেস কর্পোরেশনের মধ্যে ১৫ বছরের জন্য ব্যবস্থাপনা এজেন্সি চুক্তিটি হয় ১৯৯০ সালের ১৭ জুন। ১৯৯৭ সালে প্যাকেজেস কর্পোরেশনের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ সামগ্রীকে। বৈঠকে এসব বিষয়ও আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব রাখবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে বিধি বহির্ভূতভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছেন, ব্যাংকের পরিচালকমন্ডলীর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আটটি নট-ফর-প্রফিট প্রতিষ্ঠান কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর আওতায় গঠিত হলেও ওই সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের এমন কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, যা দ্বারা গ্রামীণ ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য তাদের পরিচালকম-লীর সভায় পেশ করার মতো আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই সব প্রতিষ্ঠানের ‘নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার’ মাধ্যমে সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বিবরণী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে তা অডিটর ও আইন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারে। বৈঠকে অডিটর নিয়োগ দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]