logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮
জিরাশাইল ও পারিজাতে ফলন বিপর্যয়
শেরপুরে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানে কৃষক
আইয়ুব আলী, শেরপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বর্ষালি ধান জিরাশাইল ও পারিজাত কাটা-মাড়াই শুরু হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধানের ফলন কম ও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু এরপরও বসে নেই এখানকার কৃষক। একদিকে চলছে ধান কাটা ও মাড়াই, অন্যদিকে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এরই মধ্যে অনেক এলাকার কৃষক জমিতে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজ শেষ করেছেন। তবে রোপা আউশ মৌসুমের জিরাশাইল ও পারিজাত ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। একই সঙ্গে চলতি রোপা আমন মৌসুমের ধান লাগানোর কাজও সমাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্রখ্যাত উপজেলার বিশালপুর, কুসুম্বী, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে কৃষক তাদের উৎপাদিত জিরাশাইল ও পারিজাত ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রায় দেড় যুগের অধিককাল ধরে এখানকার কৃষক কম-বেশি এ ধান চাষ করে আসছেন। চলতি বছরও এ উপজেলার কৃষক প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষ করেন। তবে এবার ধানের ফলন বিপর্যয় ও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান। উপজেলার ঘোলাগাড়ী গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান, সাধুবাড়ীর গোলাম রব্বানী, মোজাম্মেল হক, শহিদুল ইসলাম সদের, কহিতকুল গ্রামের মকবুল হোসেন, পালাশন গ্রামের আবদুস সাত্তারের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, গেল বছর বর্ষালি আবাদে বিঘা প্রতি দেশীয় জাতের ধান ১৩ থেকে ১৫ মণ এবং হাইব্রিড ১৭ থেকে ১৯ মণ হারে ফলন হলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বিঘাপ্রতি ফলন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১২ মণ হারে। এছাড়া গেল বছর ধানের দাম বেশি থাকলেও এবার কম। তারা আরও জানান, এক বিঘা জমিতে ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। বর্গাচাষির খরচ হয়েছে সাড়ে ৯ থেকে ১১ হাজার টাকা। অথচ জমিতে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১২ মণ হারে ধানের ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সে ধান ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ ও ধানের ফলন বিপর্যয়ের কারণে বিঘাপ্রতি তাদের ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। রমজান আলী নামের এক কৃষক জানান, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে এ ধান চাষ করেন। ধানের ফলন গড়ে ৯ থেকে ১০ মণ হারে হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ৬০০ টাকায় ধান বিক্রি করলে প্রায় ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, আউস মৌসুমের ধানে এমনিতেই ফলন একটু কম হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর একই জাতের ধান চাষ করলে ফলন কম হতে পারে। তাই বাজারে নতুন নতুন ভালো দেশীয় জাতের বীজ পাওয়া যাচ্ছে। সেসব ধান চাষ করলে বিঘায় ১৫ থেকে ১৮ মণ হারে ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে ধানের ফলন বিপর্যয় ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা এবার লোকসানের মুখে পড়বেন বলে স্বীকার করেন এ কৃষি কর্মকর্তা। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]