logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, শনিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮
হঠাৎ রক্তবমি
ডা. মানুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

বমির সঙ্গে রক্ত গেলে তাকে বলা হয় রক্তবমি বা হেমাটোমেসিস। সচরাচর পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার কারণে এমনটি হয়। বমির সঙ্গে তাজা লাল রক্ত যেতে পারে। রং হতে পারে কফির মতো। আবার ভেতরে প্রচুর রক্তপাত হলে ছোট ছোট জমাট রক্তদলা বমির সঙ্গে আসতে পারে।

রক্তবমির কারণ

পেপটিক আলসার বা পেটে আলসার হলে।

অন্ত্রনালির নিচের দিকের রক্তবাহী নালি ফেটে গিয়ে (সাধারণত দীর্ঘ যকৃতের রোগে হয়)।

অন্ত্রনালি, পাকস্থলী বা অন্ত্রের ঝিল্লি ক্ষয়ে গেলে।

অ্যাসপিরিন বা এ জাতীয় ওষুধ, বিশেষ করে খালিপেটে খেলে।

পাকস্থলীর ক্যান্সারে।

রক্তের রোগ, রক্তের ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া।

রোগ নির্ণয়

রক্তবমির ক্ষেত্রে রোগী বা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। এটা রোগ নয়, রোগের ফল। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ থাকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। যেমনÑ লিভার সিরোসিস, আলসার, শরীরে স্থায়ী কোনো ব্যথাজনিত রোগ ইত্যাদি।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলো হলো

অ্যান্ডোসকপি।

বেরিয়ামমিল এক্স-রে।

 পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম।

 লিভার ফাংশন টেস্ট।

 রক্তের বিভিন্ন কণিকার পরিমাণ।

 ব্লিডিং টাইম, ক্লটিং টাইম।

রেডিও নিউক্লিড স্ক্যান ইত্যাদি।

হঠাৎ রক্তবমি শুরু হলে

 ঠান্ডা তরল খাবার পরিমাণমতো যেমনÑ ঠান্ডা দুধ পান করতে হবে।

 গরম বা দানাদার খাবার যেমনÑ ভাত-রুটি খাওয়া যাবে না।

 গলা, বুকজ্বলে যাওয়ার অনুভূতি হলে কয়েক চামচ অ্যান্টাসিড সাসপেনশন খাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সাসপেনশন খেলে আবার বমি শুরু হয়।

 রোগীকে শোয়ানোর সময় পা একটু ওপরে রাখলে ভালো হয়।

তবে এগুলো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়। তাই অবশ্যই রোগীকে নিকটস্থ চিকিৎসাসেবাকেন্দ্রে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

যাদের বেশি ঝুঁঁকি

বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি।

 আগে থেকেই ক্যান্সার আছে।

 লিভার বা কিডনি ফেইলিউর আছে।

 আগেও এমন রক্তবমি হয়েছে।

 হৃৎপি-ের অসুখ বা ডায়াবেটিস আছে।

প্রতিরোধ

পেটে আলসার যাতে না হয়, সেজন্য আগেভাগেই খাবারের প্রকার ও সময়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অ্যালকোহল বা ধূমপানে বিরত থাকা, অ্যাসপিরিন বা এ-জাতীয় ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মমতো ওষুধ সেবন ইত্যাদি।

 হেপাটাইটিস বা অন্যান্য লিভারের রোগ, যা দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। যেমনÑ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রক্তদ্রব্য ব্যবহারে সতর্ক থাকা, অ্যালকোহল পানে বিরত থাকা ইত্যাদি। তবে কোনো কারণে হেপাটাইটিস হয়ে গেলে তার যথাযথ চিকিৎসা যতœসহকারে গ্রহণ করা।

 রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাজনিত রোগ বা সাময়িক ব্যথাজনিত রোগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যথার ওষুধ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ অবশ্যই ভরাপেটে খাওয়া বা খুব বেশি এসিডিটি হলে রেনিটিডিন বা এ-জাতীয় ওষুধ সেবন করা

ডা. মানুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]