logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, রবিবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮
বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম
ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে

ভাঙনের শিকার হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, মানুষের আদিবাড়ি, ফসলি জমি, হাটবাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে এক সপ্তাহে ২০০ বছরের পুরানো মূলফৎগঞ্জ বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে পুরানো এ বাজারের আরও ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যে-কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে নড়িয়া উপজলার একমাত্র ৫০ শয্যা হাসপাতাল ও বাজারসংলগ্ন লস্করবাড়ি জামে মসজিদ। এদিকে সম্প্রতি পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার। উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এক যুগে ১৩৪ গ্রামের মধ্যে ৫৯টি গ্রাম পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীর ওপর শতকোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সদ্যনির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ এবং হরিপুর অংশে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। নির্মাণের মাত্র ২ মাসের মাথায় ধসে গেছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কুঠিবাড়ী রক্ষাবাঁধ। অথচ পদ্মার ভাঙন থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী রক্ষায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করেছিল সরকার। কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এক বছর আগে নির্মিত টি-বাঁধটি (গ্রোয়েন) তিস্তার ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। তিস্তা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নীলফামারীর ডিমলায় হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি।

নদী ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এ কারণে সরকার বিভিন্ন সময় ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোয় বাঁধ নির্মাণ, নদী ড্রেজিংসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তা যে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রতুল অনায়াসেই বলা যায়। এছাড়া বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। বছরে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও সে অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয় না। পাশাপাশি নির্মিত বাঁধগুলোর স্থায়িত্বও থাকে খুবই কম। ফলে বছর ঘুরতেই বাঁধ ভেঙে যায়, নদী ভাঙন হ্রাস পায় না। ভাঙনের শিকার মানুষ ভিটামাটি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে তাদের আশ্রয়ের জন্য অন্য এলাকা বা শহরমুখী হতে হয়। তবে বেশিরভাগই রাজধানীমুখী। এতে জনসংখ্যার চাপে ভারাক্রান্ত হচ্ছে রাজধানী। 

এ অবস্থায় নদী ভাঙন এলাকায় আগে থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে একদিকে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তেমনি ভাঙন রোধও সম্ভব। আমরা আশা করব, দেশের যেসব এলাকায় এখন নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেসব এলাকায় ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া এ মুহূর্তে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবাই অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসবেনÑ এটাই প্রত্যাশা। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]