logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮
উজ্জীবিত নেপালের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ
পাক-ভারত যুদ্ধ ঢাকায়
শফিক কলিম

২৪ ঘণ্টা পর দ্বাদশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ; অথচ কী কী বৈপরীত্য দেখা গেল কাল দুই শিবিরে! রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে খেলার মাঠেও ধুন্ধুমার আবহ থাকে দুই শিবিরে। ঢাকা সাফে দল দুটি ভিন্ন গ্রুপে পড়লেও থাকছেন একই হোটেলে। দেখা হয়ে যাচ্ছে শেষ চারে; বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ফুটবল দ্বন্দ্বে নামবে দল দুটি। অথচ ভারতীয় কোচ-ফুটবলার চির শত্রুদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে নির্লিপ্ত! পাকিস্তানি শিবিরের ছবি উল্টো। ১৩ বছর পর সাফে শেষ চারে উঠে রীতিমতো ফুটছেন সাদ্দাম-জেশ রহমান। গণমাধ্যম পর্বে কাল অধিনায়ক সাদ্দাম বলেনও, ‘গত তিন বছর আমরা আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলিনি, কিন্তু ১৩ বছর পর সাফে শেষ চারে উঠেছি। সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।’ তাই প্রতিপক্ষকে ‘মারতে’ চান তিনি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফুলহ্যামের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ডিফেন্ডার জেস রহমানের কথা, ‘ভারতের বিপক্ষে খেলাটা সব সময় আমার কাছে বিশেষ কিছু। এ ম্যাচের সঙ্গে অনেক ইতিহাস ও আবেগ জড়িত। দুই দেশের এ লড়াই ভালো খেলার প্রেরণা জোগায়।’

কিন্তু নিজেদের আন্ডারডগ বলে যেন আগুন নিভিয়ে দিলেন ভারত সহকারী কোচ ভেঙ্কটেশ সাননিগম! ইউরোপে খেলা চার ফুটবলার খেলছে প্রতিপক্ষ দলের। আর ভারতীয় দলে খেলছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের চারজন, চারজন আছেন অনূর্ধ্ব-২২ দলের। ব্রিটিশ কোচ স্টিফেন কনস্টান্টাইনের কথায়, ‘ভারত-পাকিন্তান ম্যাচের তাৎপর্য জানি। কিন্তু আমার কাছে এটা অন্য ম্যাচের মতোই, তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।’
গেল ১১ আসরের মধ্যে সাতবার চ্যাম্পিয়ন ভারত, আরও তিনবার হেরেছে ফাইনালে। সাফে রীতিমতো একচ্ছত্র আধিপত্য তাদের।  গেল ছয় সাফে টানা ফাইনালিস্ট। আর পাকিস্তান শেষ চারে উঠল ১৩ বছর পর। ২০০৫ সাফে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল হেরেছিল বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে। এবার ঢাকার মাঠে শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ চিরশত্রু ভারত। তাদের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে পাকিস্তান পয়া ভেন্যু ধরতে পারে; ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০০৩ সাফ শুরু করেছিল তারা; যদিও ভারতের কাছেই ২-১ গোলে হেরে চতুর্থ হয়েছিল।
সাফে দুই দলের শেষ দেখা পাঁচ বছর কাঠমান্ডুতে। গ্রুপ ম্যাচে আত্মঘাতী গোলে হেরেছিল পাকিস্তান। চলতি সাফে দারুণ ছন্দে তারা, উপভোগ্য ম্যাচ হবেÑ মনে করছেন পাকিস্তানের ব্রাজিলিয়ান কোচ হোসে অ্যান্তনিও নুগেইরা, ফাইনালে খেলতে চান তিনি। তবে তার চোখে অন্যতম ফেভারিট নেপাল।
ফুটবলের আন্তর্জাতিক উঠানে পাকিস্তান-ভারত দ্বৈরথ হয়েছে ২৩ বার। এখানেও একচ্ছত্র আধিপত্য ভারতের। ১০টিতে জিতেছে তারা, পাকিস্তান তিনবার; ড্র ১০টি।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বাংলাদেশ-ভারত, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যতটা উত্তাপ ছড়ায় নেপাল-মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বৈরথে সে আগুন নেই। তারপরও দ্বৈরথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কমতি থাকে না।
সাফে চারবারের ফাইনালিস্ট মালদ্বীপ; ঘরের মাঠে ২০০৮ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারতকে হারিয়ে। নেপাল পাঁচবার সেমিফাইনাল খেললেও সর্বোচ্চ অর্জন ২৫ বছর আগে তৃতীয় স্থান। এবার গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ চারে ওঠায় তাদের বলা হচ্ছে ফেভারিট; দারুণ খেলছে তারা, তরুণ-নবীণের সমন্বয়ে গতিশীল ফুটবল খেলছে ভারত খাওয়াজ, নবযুগ শ্রেষ্ঠা, বিমল ঘাত্রি, কিরণ লিম্বু, অনন্তরা। পাকিস্তানের কাছে হার দিয়ে আসর শুরু করলেও নেপালিদের সামনে এখন প্রথম সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার হাতছানি। তাদের মনোবল বাড়িয়ে দিচ্ছে দুই বছর আগে ঢাকায় জেতা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, তাও কী, এ কোচ বালগোপাল মহারজনের অধীনেই। কাল বললেনও কোচ বালগোপাল, ‘আমরা ফেভারিট হয়েই মাঠে নামব। ছেলেদের ওপর আমার বিশ^াস আছে। ওদের সামনে প্রথমবার ফাইনাল খেলার হাতছানি, সুযোগ নষ্ট করতে চায় না কেউ, ফাইনাল খেলতে মুখিয়ে আছে।’ কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে চান অধিনায়ক বিরাজ মহারজনও, ‘আমরা এখানে চ্যাম্পিয়ন হতে এসেছি। আমাদের সামর্থ্য আছে। এরই মধ্যে প্রমাণও দিয়েছি। আমরা আত্মবিশ^াসী, তবে অতি আত্মবিশ^াসী না।’
সেরা তারকা আলী আশফাক না আসায় নখদন্তহীন মালদ্বীপ, কতটা নিষ্প্রভÑ গ্রুপ পর্বের নৈপুণ্যে স্পষ্ট। নতুন দল নিয়ে এসেছেন জার্মান কোচ স্টিফেন সেগাত। প্রভাব কিছুটা হলেও পড়েছে দলের ভেতর। ফলে দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টস ভাগ্যে শ্রীলঙ্কাকে টপকে শেষ চারে দ্বীপবাসীরা। শেষ চারে মাঠে নামার ঠিক আগে চাউর হয়েছে ঢাকা সাফের পর বরখাস্ত হচ্ছেন কোচ। পাঁচ নির্বাচকের মধ্যে তিনজন এরই মধ্যে তাকে বরখাস্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে গ্রুপ পর্বে কী হয়েছে, সেটা বোর্ড থেকে মুছে ফেলে নতুন শুরুর কথা জানান মালদ্বীপের কোচ, ‘আমি ওসব নিয়ে ভাবছি না। পেছনে কী হয়েছে, সেটা ভুলে যাব। আমরা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি।’ জয়ের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম করলেও প্রতিপক্ষ নেপালকে ফেভারিট বলতে ভোলেননি তিনি। তবে এখানে অতীত তাদের এগিয়ে রাখছে; ১৫ ম্যাচের সাতটি জিতেছে মালদ্বীপ, চারটি নেপাল, অমীমাংসিত ছিল বাকি চারটি। আজ কী হবেÑ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ বিকাল ৪টায় চাক্ষুস দেখবেন ঢাকার দর্শক।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]