logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮
২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের দুই মাস
কৃষিপণ্য ও মাছ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের দুই মাসে কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ১০ শতাংশ। আর হিমায়িত খাদ্য ও মাছ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানি খাতে এগিয়ে আছে এ খাতের চিংড়ি ও কাঁকড়া। এছাড়া এ খাতের জীবিত মাছ, হিমায়িত মাছ ও অন্যান্য খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কমেছে। এছাড়া কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে চা, তামাক, প্রক্রিয়াকৃত ফুল ও অন্যান্য খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে। কমেছে সবজি, ফল, মশলা ও শুকনো খাবার রপ্তানি। 
দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৫২ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি কমেছে ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশ। 
এ খাতের মধ্যে থাকা জীবিত মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯০ লাখ ডলার। বিপরীতে চলতি অর্থবছরের দুই মাসে রপ্তানি হয়েছে ১৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। হিমায়িত মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৩ দশমিক ০৭ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের এ খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার। চিংড়ি রপ্তানি বেড়েছে এ সময়। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। যেখানে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। ফলে চিংড়ি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ডলার। 
চিংড়ির পর রপ্তানিতে সাফল্য দেখিয়েছে কাঁকড়া। জুলাই ও আগস্ট মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যেখানে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৭ লাখ ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে কাঁকড়া রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানি খাতের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। অন্যান্য খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ২০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ কোটি ডলার। 
কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে আগস্ট সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৬৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কৃষিপণ্যের রপ্তানি হয়েছিল ১০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। ফলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৬৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। 
কৃষিপণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকা চা রপ্তানিতে সাফল্য এসেছে। এ সময়ে চা রপ্তানি হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ সময়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ডলার। সবজি রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে আগস্ট সময় পর্যন্ত সবজি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে সবজি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তামাক রপ্তানিতে সাফল্য এসেছে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত রপ্তানির পরিসংখ্যানে। এ সময়ে তামাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৬ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে তামাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে তামাক রপ্তানি হয়েছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তামাক রপ্তানি হয়েছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার। ফলে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে তামাক রপ্তানি বেড়েছে ২০ দশমিক ০২ শতাংশ। 
প্রক্রিয়াজাতকৃত ফুল রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০০ শতাংশ। এ খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ডলার। ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ খাতের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। মশলা রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কমেছে ১৮ দশমিক ০২ শতাংশ। শুকনো খাবার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ কম হয়েছে। অন্যান্য খাতের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২০ শতাংশ। এ খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ কোটি ডলার। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১১ কোিট ১৩ লাখ ডলার।  

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]