logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯
সড়কে মড়ক : শেষ কোথায়
বিশ্বজিত রায়


ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দূর কর্মস্থলে থাকা সব মানুষ নাড়ির টানে ছুটে চলেন বাড়িতে। উদ্দেশ্য ঈদ ছুটিতে আপনজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া। আবার ঈদ শেষে যার যার কর্ম গন্তব্যে ছুটে চলেন মানুষ। এই যাওয়া-আসার যাত্রাপথে সড়ক দুর্ঘটনার মতো অনাকাক্সিক্ষত অঘটনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক যাত্রী। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন। ১০ জুন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ৯৫টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঈদের বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাস মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে বিষাদ-বেদনায়। এটা প্রতি বছর ঈদপূর্ব-পরবর্তী পথে দুর্ঘটনাকবলিত অস্বাভাবিক মৃত্যুর গতানুগতিক প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারা বছর সড়ক দুর্ঘটনায় অগণিত মানুষের মৃত্যু হলেও ঈদ আনন্দকে সামনে রেখে এমন অপমৃত্যু যেন থামতে চাইছে না। দিনের পর দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এর মাত্রা। আজ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলে কাল খবরের কাগজে উঠে আসছে ১০ জনের মৃত্যু বার্তা। এ থেকে মুক্ত হতে পারছে না দেশ। এই অপমৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে যেসব চিহ্নিত বিষয় সামনে চলে আসছে সেগুলো প্রতিহত কিংবা নির্মূলের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। নেওয়া হয় না কোনো দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ। বরং হাজারো মানুষের স্বজনহারা কান্নাকে বিদ্রুপ করে দেওয়া হচ্ছে যান চলাচলের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা। সড়ক দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিপরীতে সবকিছু ছাড় দিয়ে চালক-মালিকদের দেওয়া হচ্ছে আরও সড়ক দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ।
গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসচাপায় মারা যাওয়ার পর সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেøাগানে সেøাগানে উত্তাল হয়ে পড়ে রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথ। সর্বস্তরের জনসমর্থনে এ আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াত দুই শিক্ষার্থীশূন্য শোকে স্তব্ধ শিক্ষার্থী সমাজ ক্ষোভের আগুনে জ্বলে ওঠে। সড়কে সর্বদা প্রাণ বিলীনে ব্যথিত মানুষ নিজেদের সুপ্ত অন্তর্জ্বালা ছাত্রদের আন্দোলন সুযোগে বিস্ফোরিত প্রতিক্রিয়ার ব্যাপ্তি ঘটায়। সড়ক দুর্ঘটনার এ আন্দোলন পুরো দেশকে জাগিয়ে তোলে। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের একত্রিত সড়ক উচ্ছৃঙ্খল অসন্তুষ্টির মর্মবেদনা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেয় বড় ধাক্কা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বিশেষ মনযোগী হয়। গণপরিবহনের ভেতরে সৃষ্ট দীর্ঘ অসঙ্গতি-অব্যবস্থাপনা সারাতে সরকার তাৎক্ষণিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। কিন্তু ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের সুস্থ সড়ক ব্যবস্থাপনার কর্মতৎপরতা কি অস্বাভাবিক মৃত্যু থামাতে পেরেছে? বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাণ বধের অপ্রস্তুত খেলা। এই অস্বাভাবিক সড়ক মৃত্যুর শেষ কোথায়?
সড়ক দুর্ঘটনার হৃদয়বিদারক খবর যেন সংবাদপত্রের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গত বছর সারা দেশে সাড়ে সাত হাজার নিহত ও প্রায় ১৬ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কতজন মারা যাচ্ছে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। সড়ক নিরাপত্তার দাবিতে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) তথ্য অনুসারে ২০১৮ সালে ৩ হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৪৩৯ জন নিহত হয়েছেন। নিসচার পরিসংখ্যান মতে, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৩১৬টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ১৫২ জন ও ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৪৯টি দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৬৪৫ জন নিহত হয়েছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্য অনুসারে, গত বছর ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়েছে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। [সূত্র : যুগান্তর, ২০.০৩.১৯]। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে প্রতিনিয়ত বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালক বা মালিকের উপযুক্ত শাস্তি হয় না। এছাড়া নতুন আইনে সরাসরি কঠোর শাস্তির বিধান না থাকায় চালকসহ সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। তারা মনে করেন, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হলে বেপরোয়া গাড়ি চালানো অনেকাংশে বন্ধ হবে। আর সবাই সচেতন হলে ৮০ শতাংশ দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় মারা যাওয়ার ঘটনায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আন্দোলনের সেøাগান সমবেত সুর রাজধানী শহরের বাতাসে এখনও শোনা যাচ্ছে। সচেতন মানুষের হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করা সাবধান বাক্য ‘রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে’-এর পরিপক্ব বাস্তবতার রেশ এখনও সজীব। দুর্ঘটনায় হত শোকাতুর ছাত্র আন্দোলনের তরতাজা দৃশ্যপট এখনও ভেসে উঠছে। কিন্তু আন্দোলনপূর্ব প্রাণ হরণের ব্যথিত অঘটন বাংলাদেশকে ছেড়ে যায়নি। আন্দোলন হয়তো শেষ হয়ে গেছে। সবাই সবার ঘরে ফিরে গেছে। কিন্তু জীবনদেহ ধ্বংসের দুরন্ত গতি থেমে নেই। দেশব্যাপী চলছে মরণঘাতী মহাদুর্যোগ। রাজধানী ঢাকার নামিদামি বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার অঘটনে তাদের সহপাঠী ছাত্র সমাজ দুই পরিবারের শূন্য কাতরতায় হয়তো সমব্যথী হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা সবার যৌক্তিক সমর্থন নিয়ে সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। দাবি আদায়ী সামর্থ্য হয়তো হত পরিবারের দুঃখ কিছুটা লাঘব করতে পেরেছে। কিন্তু দেশব্যাপী যে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজনশূন্য আর্তনাদ ও আজীবনের শোক বয়ে আনা অপূরণীয় ক্ষতির অস্বাভাবিক মরণযাত্রা অব্যাহত রয়েছে, সেগুলোর প্রতিবাদ কে করবে?
গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মারা যাওয়া; গৃহকর্মী রোজিনার প্রথমে পা হারানো, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া; কুষ্টিয়ায় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশু আকিফার প্রাণহানি, চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রনি নামের এক যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করার মতো অনেক ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। কিন্তু এতসব আন্দোলন-প্রতিবাদের পরও দুর্ঘটনা থেমে নেই। বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর এ প্রতিযোগিতা। সড়কে তাজা প্রাণ হরণের এ বেপরোয়া গতি দেখে সচেতন মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, এসব প্রতিরোধ করার মতো দেশে কি কোনো বিধি-বিধান নেই?
এই অকালে মৃত্যুর পাথরচাপা কষ্টেরা কি নীরবেই কেঁদে যাবে? এগুলো শোনা কিংবা দেখার কি কেউ নেই? অনেকটা অযতেœ-অবহেলায় রক্তাক্ত জখমে অসময়ের যাত্রী হয়ে মাটিচাপা হয় হত শরীরগুলো। আর মৃত্যুশোকে স্তব্ধ আপনজন বুকফাটা কষ্টক্রন্দনে জানায় বিদায়। কেন এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মিছিল। কতকাল কাঁদতে হবে মানুষকে। স্বজনহারা ব্যথাবিদীর্ণ মানুষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবার-পরিজনকে অসচ্ছলতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করবে কে? এর সন্তোষজনক উত্তর যেমন কেউ দিতে পারবে না, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ মহামারি তা-ব নিরসনের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। প্রতিনিয়তই সড়কে দুর্ঘটনা দুর্বৃত্তের দানবীয় হানায় অসংখ্য মানুষের জান কবচ হলেও বিভীষিকাময় প্রাণবিপন্ন এ মরণদূতকে সামলানোর শক্তি আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের আছে কী নেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সড়ক দুর্ঘটনার ধারাবাহিক যন্ত্রণায় কাতর বাংলাদেশ গলা উঁচিয়ে কাঁদছে। কিন্তু গণপরিবহন তথা চালক, যানবাহন ও সড়ক অসঙ্গতির মূল কারণগুলো কি চিহ্নিত করে তা দূরীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে? হয়তোবা হয়েছে, হচ্ছে, হবে। তবে এভাবে দায়সারা গোছের খামখেয়ালিপনায় সড়ক সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হবে। এতে করে দিন দিন দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়বে বৈ কমবে না।
সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি। আর অন্য আরেকটি বড় সমস্যা যেটা অনেকটা মৌন থেকে যায় তা হলো অসাবধানতা। সে অসাবধানতার অন্যতম বাহক আমরা সবাই। ব্যস্ততম রাজধানীর যাতায়াত চিত্র লক্ষ্য করলে তা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়। যেমন অনেকে ব্যস্ত রাজপথে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। কেউ মোবাইলে আলাপচারিতায় পথ পাড়ি দিচ্ছেন। কেউবা আচমকা দৌড়ে ব্যস্ত মহাসড়কের এপাশ থেকে ওপাশে যাচ্ছেন। এই পথ পারাপারের জন্য আমরা সড়কে সটান দাঁড়িয়ে থাকা ওভারব্রিজ ব্যবহার করছি না। জনসাধারণের সুবিধার্থে সরকারের অঢেল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ওভারব্রিজগুলো পথিক আকাক্সক্ষায় ভুগছে। একটু অসাবধানতায় আমরা কত বড় বিপদ ডেকে আনছি তা ভেবে দেখছি না। চলাচল নিরাপত্তায় প্রস্তুতকৃত ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে মানুষ দৌড়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে রাস্তা অতিক্রম করছে, এমন চিত্র পত্রিকান্তরে ফলাও করে ছাপা হচ্ছে। এছাড়া ট্রাফিক আইন মেনে না চলার প্রবণতাও আমাদের মাঝে বেশ প্রবল। চালক অদক্ষতার সঙ্গে মানুষের এই নেতিবাচক দিকগুলো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। তবে চালকের অদক্ষতা ও সড়ক অব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
চালকের আসনে বসে যারা সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের কয়জনের বৈধতা আছে। অধিকাংশ চালকের নেই গাড়ি চালানোর বৈধ কাগজপত্র। এভাবেই চলছে তাদের চালক জীবন। যার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ডাঙায় চলাচলরত বেশির ভাগ গাড়ির চালকই অদক্ষ, অনভিজ্ঞ, অবৈধ। এদের দ্বারা যদি গাড়ি চালানো হয় তাহলে দুর্ঘটনায় মানুষ মরাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ ব্যাপারে কারও নজর নেই। দুর্ঘটনায় দেশ কেঁপে উঠলেই শুধু হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। অন্যথায় খোঁজখবর নেই গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলতার বিষয়টিতে। মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হওয়া সড়কের সুশৃঙ্খলতায় যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনোযোগ না থাকে তবে যা হওয়ার তাই হবে। দেশজুড়ে মরণ মহাযজ্ঞের সড়ক অস্থিতিশীলতাই তার প্রমাণ। এ থেকে উত্তোরণের পথ খোঁজাটাই উত্তম। এ জন্য সরকারকে দায়িত্বশীল হতে হবে। 

বিশ্বজিত রায়
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
[email protected]

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]