logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯
স্বপ্নের পৃথিবীটা একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে!
সিরিয়ার দামেশক নগরীতে অবস্থিত প্রায় ১২শ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক আমর বিন আস (রা.) মসজিদ
এমএ করিম ইবনে মুছাব্বির

আমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার ক্যামেরার আওতায়, আমাদের গোটা দেহসত্তা এবং রুহ বন্দি! আমরা রঙিন ভুবনে কোথায় লাফালাফি করছি; অথচ মৃত্যু এমন এক বাস্তবতা, যা থেকে কেউ পলায়ন করতে পারবে না। প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। কোথায় কখন কোন অবস্থায় কাফন, দাফন, জানাজা হবে কি না, তা-ও জানি না। আমার ভবিষ্যৎটা কী হবে, তা-ও জানি না, তাহলে আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করি আমি আবার কে?
আমি হলাম ওই ব্যক্তি যে আমার নিয়ন্ত্রণে কিছুই নেই, সব নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহ বলেনÑ ‘হে নবী আপনি বলে দিন, মৃত্যু! যার থেকে তোমরা পলায়ন করছ, অবশ্যই সেই মৃত্যু তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের পাকড়াও করবেই যদি তোমরা সূর্যের দুর্গে অবস্থান করো।’ (সূরা নিসা : ৭৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন : ‘প্রতিটি জাতির মৃত্যুর জন্য একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর নির্দেশে নির্ধারিত সময় চলে আসে, তখন তা থেকে এক মুহূর্তও সামনে-পিছে আল্লাহপাক ছাড়া কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই!’ (সূরা আরাফ : ৩৪; সূরা ইউনুস : ৪৯; সূরা নাহল : ৬১)। 
এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীটা যাকে নিয়ে তোমরা স্বপ্ন দেখছ, এ স্বপ্নের পৃথিবীটাও একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে! কেয়ামতের সময় যখন নিকটবর্তী হবে, তখন আল্লাহপাক তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে শিঙায় ফুৎকার দেওয়ার আদেশ দেবেন। অতঃপর ফেরেশতা শিঙায় ফুৎকার দেবেন। ফলে পৃথিবী ও পাহাড়গুলো উত্তোলিত হয়ে যাবে, পাহাড়গুলো চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং তারকাগুলো ঝরে পড়বে, সূর্য তার কিরণ হারিয়ে ফেলবে, সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে! সেদিন কেয়ামতের ভূমিকম্প ও কেয়ামতের ভয়ংকর অবস্থা দেখে সবাই মৃত্যুবরণ করবে। (সূরা জুমার : ৬৮-৭৪; সূরা হাক্কাহ : ১৩-৩৭; সূরা নামল : ৮৭-৯০)। প্রত্যেক প্রাণীর যেমন দেহ আছে, ঠিক আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে যে বায়ু প্রবাহিত হয় কনকন করে সেটা পৃথিবীর রুহ। সেদিন পৃথিবীর দেহটাও মুছে যাবে। পুরো পৃথিবীটা আল্লাহ তায়ালার কাছে এমন ক্ষুদ্র যে, ফেরেশতা জিবরাইলের দুই ডানায় পৃথিবীটা একটা হাতের তালুর মতো! 
আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, নিশ্চয়ই কেয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর বিষয়। সেদিন তোমরা দেখবে প্রত্যেক স্তন্যদানকারিণী আপন গর্ভজাত পোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে! এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে! শুধু দেখবে মানুষকে পাগলের মতো, আসলে ওরা পাগল নয়। তবে আল্লাহর আজাবই হবে কঠিন।’ (সূরা হজ : ১-৩)। অতঃপর যখন শিঙায় ফুৎকার করা হবে, মাত্র একটি ফুঁ! আর জমিন, পর্বতমালা উত্তোলিত করা হবে! যখন পৃথিবীর দেহ আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে, মাত্র একটি আঘাতে সব চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে! আসমান ফেটে টুকরা টুকরা হয়ে যাবে, নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে, আর যখন সমুদ্রগুলো উত্তাল করা হবে, আর যখন কবরগুলো উন্মোচিত করা হবে, তখন প্রত্যেকেই জানতে পারবে যে, আল্লাহ তায়ালা আগে কী পাঠিয়েছেন এবং পরে কী পাঠিয়েছেন! কেয়ামতের ভয়াবহতায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সেদিন আমি আল্লাহ ছাড়া প্রতিটি বস্তু ধ্বংস হয়ে যাবে। সেদিন আসমানের নিচে এবং জমিনের ওপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেদিন মহামহিম ও মহানুভব আল্লাহ থাকবেন।’ (সূরা রহমান : ২৬-২৭)। 
তাফসিরে ইবনে কাছিরে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে যখন ইসরাফিল (আ.) শিঙায় ফুৎকার দেবেন, তখন সবাই মরে যাবে! আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মউতকে জিজ্ঞেস করবেন, আর কে মৃত্যুর বাকি আছে? তখন মালাকুল মাউত আজরাইল বলবেন, হে আল্লাহ, মৃত্যুর বাকি রয়েছেন হজরত জিবরাইল, মিকাইল ও আরশ বহনকারী ফেরেশতারা। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মালাকুল মাউতকে নির্দেশ করবেন যে জিবরাইল, মিকাইল ও আরশ বহনকারী ফেরেশতাদেরও মরতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে সব ফেরেশতা মারা যাবেন। অতঃপর আল্লাহ মাউতকে জিজ্ঞেস করবেন মৃত্যুর বাকি আর কে আছে? তখন মালাকুল মাউত বলবেন আপনি এবং আমি মালাকুল মাউত আজরাইল বাকি আছি! হে আল্লাহ! আপনি চিরঞ্জীব। তখন আল্লাহ মালাকুল মাউতকে বলবেন, হে মালাকুল মাউত, তুমিও মরে যাও। কেননা তুমিও আমার মাখলুক। তৎক্ষণাৎ মালাকুল মাউতও মারা যাবেন। শুধু চিরঞ্জীব আল্লাহ তায়ালা থাকবেন। ‘অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আসমান-জমিনকে ভাঁজ করে ফেলবেন।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৪)।  
রাসুলে করিম (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ সমগ্র পৃথিবীর দেহ জমিন ও আসমানকে নিজ হাতে ভাঁজ করে নেবেন। অতঃপর আল্লাহ গৌরব করে বলতে থাকবেন, ‘আনাল মালিক, আনাল জাব্বার, আনাল মুতাকাব্বির, আমিই প্রভু, আমিই প্রতাপশালী, আমি একমাত্র আল্লাহপাকই গৌরবকারী।’ সেদিন আল্লাহপাক বলবেন, পৃথিবীর জমিনের রাজা-বাদশাহরা কোথায়? সেদিন কারও কিছু বলার অধিকার থাকবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেদিন সব মানবজাতিকে মৃত্তিকার কঙ্কালের হাড় থেকে জীবিত করা হবে।
নিতম্বের হাড় হলো মানব সত্তার মেমোরি কার্ড। দেহের সবই ধ্বংস হয়ে যাবে; কিন্তু মানবজাতির ওই হাড়টা ধ্বংস হবে না, সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল আলামিন সেদিন ওই হাড়ে একবিন্দু পানি দ্বারা আবার মানবজাতিকে রুহ এবং দেহ দিয়ে সৃষ্টি করবেন। যেমন পৃথিবীতে মানবজাতিকে একবিন্দু পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তেমনি রাব্বুল আলামিন একবিন্দু পানি দ্বারা জীবিত করে মানবজাতিকে কবরের জীবন থেকে ওঠাবেন! তখন মানবজাতি বলবে, হে আল্লাহ, আমরা তো ঘুমে ছিলাম। এখন বিশাল এক ময়দানে চলে এসেছি! কেয়ামতের সেই মাঠে কেউ কাউকে চিনতে পারবে না। সন্তান, স্ত্রী, মা, বাবা, ভাই-বোন কেউ কাউকে চিনবে না বা পরিচয় দেবে না। এমনকি নবীয়ে করিম (সা.) ছাড়া সব নবী বলবেন, ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি। সব নবী বলবেন, হে আল্লাহ, শুধু আমি বাঁচতে চাই। আমরা সন্তান-স্ত্রীর বিষয়ে কিছু জানি না। (সূরা নাবা : ১৮; সূরা আবাসা : ৩৪-৪২)। 

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]