logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯
স্বর্ণের ডিমগুলো কোথায় গেল?
আলোকিত ডেস্ক

নামে ডিম। দেখতেও ডিমের মতোই। কিন্তু কাজে ডিম নয়। বরং, মহার্ঘ্য উপহার। তার নাম ‘ফাবেরজে এগ’। সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার প্রখ্যাত রতœকার পিটার কার্ল ফাবেরজের তত্ত্বাবধানে এ বহু মূল্যবান ‘স্বর্ণের ডিম’  তৈরি হয়েছিল, যা ছিল অভিজাতদের ইস্টার উপহার।

নির্মাতার নাম অনুসারে উপহারের নাম হয় ‘ফাবেরজে এগ’। রাজকীয় এ উপহার কতগুলো তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বহু মত আছে। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, তৈরি হয়েছিল প্রায় ৬৯টি ডিম।

এর মধ্যে ৪৬টি তৈরি হয়েছিল রুশ সম্রাট জার তৃতীয় আলেকজান্ডার এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসের জন্য। ইস্টারে এ উপহার তারা দিতেন তাদের মা ও স্ত্রীকে।

প্রথম ফাবেরজে এগ তৈরি হয়েছিল ১৮৮৫ সালে, জার তৃতীয় আলেকজান্ডারের নির্দেশে। ইস্টারে তিনি সেটি উপহার দিয়েছিলেন স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মারিয়া ফিওদোরোনোভাকে। ‘হেন এগ’ বা মুরগির ডিম নামে পরিচিত এ ‘ডিমের’ সাদা অংশ তৈরি হয়েছিল ওপাক এনামেল্ড দিয়ে। খোলস খুললেই ভেতরে দেখা যেত স্বর্ণের তৈরি কুসুম।
অভিনব উপহারে আপ্লুত হয়ে যান সম্রাজ্ঞী মারিয়া। এরপর জারের মুকুটের জন্য বিশেষ অর্ডার পৌঁছায় পিটার ফাবেরজের কাছে। বানাতে হবে এ রকমই অভিনব জিনিস। নির্মাতাকে দেওয়া হলো পূর্ণ স্বাধীনতা। শর্ত একটাইÑ নির্মাণে থাকতে হবে অভিনবত্ব।
তৃতীয় আলেকজান্ডারের পর উপহারের এ ধারা বজায় ছিল তার ছেলে দ্বিতীয় নিকোলাসের আমলেও। ১৮৮৫ থেকে ১৯১৭ সাল অবধি প্রতি বছর ইস্টার উপলক্ষে তৈরি হয় এ বিশেষ উপহার। শুধু ১৯০৪ সাল ও ১৯০৫ সালÑ এ দুই বছর বন্ধ ছিল রুশ-জাপান যুদ্ধের কারণে।
রাশিয়ার জার পরিবারের বাইরেও পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন অভিজাত ও সম্পন্ন ব্যবসায়ী পরিবারের নির্দেশে তৈরি হয়েছে ফাবেরজে এগ। বলশেভিক বিপ্লবের পর ফাবেরজে পরিবার রাশিয়া ছেড়ে চলে যায়। এরপর বহুবার ফাবেরজে ট্রেডমার্কের হাতবদল হয়েছে।
যতগুলো ফাবেরজে এগ তৈরি হয়েছে, প্রতিটি একে অন্যের থেকে আলাদা। স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ওপর বসানো হয়েছে হীরা, চুনি, পান্নার মতো মহার্ঘ্য রতœ।
কিছু ফাবেরজে এগ সেরার সেরা বলে বিবেচিত হয়। তার মধ্যে একটি ‘ডায়মন্ড ট্রেলি’। এটি হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি। তার ওপর বসানো মূল্যবান পাথর। আর একটি উল্লেখযোগ্য ফাবেরজে এগ হলো ‘গাটচিনা প্যালেস’ এগ। যেখানে প্রাসাদের রেপ্লিকা তৈরি হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তৈরি হয়েছিল ‘অর্ডার অব সেন্ট জর্জ’ ইম্পেরিয়াল এগ। রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এটি। তবে ফাবেরজে সংস্থার তৈরি সব রাজকীয় উপহারই যে ডিমের মতো দেখতে, তা নয়। ১৮৮৭ সালের এ উপহার ছিল ডিমের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ঘড়ি। ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের তৈরি এ ঘড়ির কাঁটায় হীরা বসানো ছিল। এ অভিনব মহার্ঘ্য উপহারের পেছনে সব কৃতিত্ব পিটার কার্ল ফাবেরজেকে দিতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নতুন নতুন অভিনবত্বের পেছনে কৃতিত্ব রয়েছে অনেকের। কিন্তু বাকি নাম কোন দিন প্রকাশ্যে আসেনি। সব কৃতিত্ব পেয়েছেন ফাবেরজে একাই। এ মহার্ঘ্য উপহারের মধ্যে অন্তত ২৩টির এখনও কোনো খোঁজ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো খুঁজে চলেছে গুপ্তধন শিকারিরা। আনন্দবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]