বায়ুদূষণে শীর্ষে থাকা ঢাকার বাতাস আজ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ছুটির দিনেও রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত সড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম থাকলেও শুক্রবার সকালেও বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ঢাকার স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৭৫। বায়ুর মানদণ্ড অনুযায়ী এই স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও একই অবস্থানে ছিল ঢাকা। এতে বোঝা যাচ্ছে, টানা কয়েকদিন ধরেই মেগাসিটির বাসিন্দারা বিষাক্ত বাতাসের মধ্যে নিশ্বাস নিচ্ছেন।
ঢাকার পর দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে ভারতের দিল্লি ও চীনের শাংহাই। শহর দুটির একিউআই স্কোর যথাক্রমে ২৬০ ও ২৩৫।
একিউআই স্কোরের ভিত্তিতে বায়ুর স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ বা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। সে হিসেবে ঢাকার বর্তমান স্কোর ২৭৫ হওয়ায় রাজধানীর বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বৃষ্টিপাত না থাকা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ঢাকায় বায়ুদূষণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অপরিকল্পিত রাস্তা খনন ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে উড়ে আসা ধুলিকণা, ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে অবস্থিত ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া।
দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষিত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই আবহাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
