ঢাকায় ঈদের মিছিল ও তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবসহ ঈদের দিন রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য ঈদের মিছিলের আয়োজন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঈদ উৎসব উদযাপন কমিটি–২০২৬-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিটি পোস্ট করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোঘল সম্রাজ্য চলাকালীন সময়েও ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিল হয়ে উঠেছিল ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ঈদের মিছিল নাগরিক জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছিল।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঔপনিবেশিক শাসন ও উঁচু জাতের জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে এই উৎসবের আমেজ। বাঙালি মুসলমানের উপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসন ঈদের উৎসবকে একটি আমেজহীন ছুটির দিনে পরিণত করে। ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের উপর আঘাত হানে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঈদের মিছিল আবারও শুরু হয়। গতবছর রাজধানীর ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। ঈদমিছিল শহরের সড়ক অতিক্রম করার সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হন। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সকলেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নেমে আসেন, ফলে পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে।
এই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নাগরিকদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে ঈদের মিছিল। এবার শুধু ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিলই নয়; বরং ঈদের আগের দিন থেকে টানা তিনদিন যাবৎ উদ্যাপিত হতে চলেছে ঈদ উৎসব।
ঈদের আগের দিন চাঁদ রাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হবে মেহেদী উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের যে কেউ এই মেহেদী উৎসবে সামিল হতে পারবে। চাঁদরাতে চলবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা আয়োজন।
ঈদের দিন সকাল দশটায় জাতীয় ঈদগাহের সামনে (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে ঈদের মিছিল শুরু হবে। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা থেকে নাগরিক উদ্যোগে ঝটিকা মিছিল নিয়ে দশটার আগেই সবাই জড়ো হবে। ঈদের বর্ণাঢ্য মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হওয়া ঝটিকা মিছিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি।
ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসবের। ঢাকার প্রাচীন এই ঘুড়ি উৎসবকে ঈদের উৎসবের সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি মিথস্ক্রিয়া তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করতে ঈদের মিছিলের বড় একটি অংশজুড়েই থাকবে কিডস জোন। শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই ঈদ উৎসবে ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নাগরিক উদ্যোগে এই আয়োজন বিধায় সর্বসাধারণের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী যে কোন তরুণও যুক্ত হতে পারবে এই আয়োজনের সঙ্গে।
