সহপাঠীর আত্মহত্যায় উত্তাল স্কুল, অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান-অধ্যক্ষ
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৭:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে।
তাদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণেই দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্রাইট গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং অধ্যক্ষ মো. মাইদুর রহমান জেমকে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দুপুর পর্যন্ত তারা সেখানে আটকে ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় পুলিশ।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণেই তাদের সহপাঠী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বুধবার বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল পরীক্ষা ছিল। অর্থনীতি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না থাকায় সাবিকুন নাহার চুপচাপ বসে ছিল। একপর্যায়ে খাতায় আঁকিবুঁকি করলে বিষয়টি এক শিক্ষিকার নজরে আসে। পরে তার খাতা প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠানো হয়।
এক সহপাঠীর দাবি, এরপর সাবিকুনকে দীর্ঘ সময় ধরে বকাঝকা করা হয় এবং তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। পরে তার অভিভাবককে ডেকে এনে অপমান করা হয় বলেও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, স্কুল শেষে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে সাবিকুন। তাদের অভিযোগ, এর আগেও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ঘটনার জন্য তারা স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার বোনকে মারলি কেন?’, ‘হত্যার বিচার চাই’, ‘লিটনের বিচার চাই’, ‘এক দফা এক দাবি’সহ বিভিন্ন স্লোগান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুদ হাসান লিটনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
