রামিসা হত্যা মামলার আসামির অতীত নিয়েও যা জানালেন ডিবিপ্রধান

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১৬:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানার অতীতও অপরাধে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (২২ মে) ডিএমপি গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ও স্বভাবচরিত্র ভালো ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

জানা গেছে, সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার ছোট বোন জলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

সোহেলের মা-ও জানান, গত চার বছর ধরে ছেলে পরিবার বা সন্তানদের কোনো খোঁজ নেয়নি এবং কোনো আর্থিক সহযোগিতাও করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল এলাকায় চুরি ও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। সরকারি রড ও স্থানীয় অটোমিলের রড চুরির অভিযোগে একাধিকবার ধরা পড়ে মারধরের শিকারও হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সে বারবার রক্ষা পেয়ে যেত।

ব্যক্তিজীবনেও নানা বিতর্ক ছিল তার। প্রায় ১০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করলেও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সেই সংসার ভেঙে যায়। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অনলাইন জুয়া ও মাদকে আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। পাওনাদারদের চাপে একসময় এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকায় এসে পল্লবীতে রিকশা মেরামতের কাজ শুরু করলেও মাদকাসক্তি ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন অব্যাহত ছিল। বিহারি ক্যাম্পের একটি বাসায় ভাড়া থাকাকালে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে সেখান থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়। পরে একটি গ্যারেজে কাজ নিলেও অনিয়মিত হওয়ার কারণে চাকরি হারান।

সবশেষ, পল্লবীর একটি বাসায় ভাড়া ওঠার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।