রাজধানীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর মিরপুরে রাজপথে নেমেছেন পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে আগে থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ১০টার আগে থেকেই পল্লবীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় বিভিন্ন কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা রাস্তায় নেমে এলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিগুলোতে অবস্থান নেন। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁরা আবারও মূল সড়কে ফিরে আসার চেষ্টা করলে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা তৈরি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হলে স্টেশনের ভেতর আটকা পড়েন বহু সাধারণ যাত্রী। এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। তবে অন্যান্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে এই স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গতকাল সোমবারও ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশুলিয়াতে ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শত শত কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে রোববারই (১ নভেম্বর) নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রীদের জরুরি নির্দেশনা দেন এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়।

তবে সরকারের এই আহ্বানের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন সরকারের ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীরা।

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, শ্রমিকদের এই লাগাতার বিক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক এমপি-প্রতিমন্ত্রী এবং কিছু শিল্পমালিক এই অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত।

শ্রমিক নেতাদের একাংশও জানিয়েছেন, আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে থেকে তৃতীয় পক্ষ উসকানি দিচ্ছে। সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের পরও রাজপথের এই অস্থিতিশীলতা কীভাবে নিরসন হবে, তা নিয়ে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ বিরাজ করছে।