
চাঁদপুরে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে, উৎসব মূখর পরিবেশে পিঠা উৎসবকে হৃদয়ে লালন করতে, আনন্দঘন পরিবেশে গ্রাম বাংলার বর্তমান প্রজন্মকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য পল্লীর মানুষের হৃদয়ের ধারন করে রাখার জন্য এ পিঠা উৎসব। বাহারি রকমের বিভিন্ন পিঠার আয়োজনের মধ্যদিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও অত্যান্ত মনমুগ্ধকর পরিবেশে স্নিগ্ধ শীতের সকালে, পড়ন্ত দুপুরে কিংবা আবছায়া গোধূলির ফুরফুর মেজাজে পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে! শুধু এক প্রকার নয়, হরেক রকমের পিঠার আয়োজনে চাঁদপুর প্রেসক্লাব করেছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব।
বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার মধ্যদিয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাব অডিটরিয়ামে এই বর্ণিল পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ পিঠা উৎসবে হরেক রকমের পিঠার স্বাদ গ্রহনে মেতে উঠেছে,চাঁদপুরের আপামর পিঠা প্রেমিরা।
খাদ্যরসিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপূরক বিভিন্ন রকম মুখোরচক খাবার তৈরি করে আসছে। তার মধ্যে পিঠা অন্যতম। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এ সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে এ পিঠা। আর এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এ বছর পিঠা উৎসবের আয়োজন হয়। একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ সম্মানে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করে চাঁদপুর প্রেসক্লাব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুর প্রেসক্লাব কমিউনিটি সেন্টাওে এ পিঠা উৎসবের আয়োজন চলে।
নানান ধরনের পিঠার পসরা নিয়ে হাজির হন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সহধর্মিণীরা। গ্রাম বাংলার নানা ধরনের পিঠাসহ স্টলে স্টলে প্রায় ৫০ ধরনের পিঠা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই পিঠার আসর। বিভিন্ন অঞ্চলের সব বিখ্যাত পিঠার সমাহারতো রয়েছেই, সাথে রসভরি, ছানার লবঙ্গ, মালাই চপ, আলুর পিঠা, দুধ পুলি, তিল পাকন, মিষ্টি পোয়া, তালের পিঠা, স্বর ভাজার মতো বৈচিত্র্যময় সব লোভনীয় পিঠার পসরা সাজানো হয়। এদের ভিতর উল্লেখযোগ্য ভাপা, পুলি, তক্তি, নকশি পিঠা, ডিমের পুডিং, পাটি সাপটা, ঝাল চন্দ্রকোনা, চন্দনকুলি, দুধ খেঁজুর, নারিকেলের চিড়া, রসপান, হৃদয়হরন, গোকুল পিঠা, খেুজর রসের পায়েসসহ হরেক রকমের রসালো পিঠার আয়োজন ছিল এ পিঠা উৎসবে। পরবর্তীতে এদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ ফেরদৌসের পরিচালনায় উদ্ধোধকের বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল।
পিঠা উৎসবে পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব আমার সম্মানে যে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে সত্যিই আমি মুগ্ধ। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা সব দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। আমি চাঁদপুরের সাংবাদিকদের পাশে সব সময় আছি এবং থাকবো। পিঠার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পিঠা বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি ভিন্ন ধরনেসর অংশ। শীত আর পিঠা একে অপরের পরিপূরক।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাকালের তত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান, সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা পলিন, ডা. নোমান, ডা. জয়নব, জেলা আইনজিবী সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাড. আবদুল্লা-আল মামুন, এড. সাইফুদ্দিন বাবু প্রমূখ।