ডিবি হেফাজতে রিকশাচালকের মৃত্যু: সিরাজগঞ্জে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিকশাচালক শাহাদত হোসেন (৪৫) অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রামের মৃত খলিল হোসেনের ছেলে। তবে পুলিশ প্রশাসন প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যেই এ কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর শহরের রেলস্টেশন এলাকার মিশুকচালক আমিনুল ইসলামের গাড়ি ভাড়া নেয় দুর্বৃত্তরা। তাকে হত্যার পর তার লাশ উল্লাপাড়ার চৌকিদহ ব্রিজের নিচে ফেলে দেয় এবং তার মিশুক গাড়ি নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে ওই ব্রিজের নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে ওই থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং বিশেষ তদন্তে ডিবি পুলিশ রিকশাচালক শাহাদতের সম্পৃক্ততা পায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে শহরের বাজার স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া মিশুকের ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।

এরপর শাহাদত শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।

ওই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার মনি জানান, রোগীর হিস্ট্রিতে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ রয়েছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। পাশাপাশি তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনের নির্দেশনায় এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ কমিটির প্রধান হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান (ক্রাইম) এবং অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজরান রউফ ও ডিআইও-১ আনোয়ার হোসেন। এ কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।