ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ীর ছেলে এখন বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ীর ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী আতাউর রহমান ৪৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছেন।

বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে এলাকায় জুড়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওই মেধাবী শিক্ষার্থীসহ তার পরিবার। ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব ফুলমতি গ্রামের ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে তিনি।

জানা গেছে, আতাউর রহমানের বাবা একজন ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী হওয়ায় তার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। আতাউর অনেক কষ্টের মধ্যে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পড়াশুনা চালিয়েছেন। ২০১৩ সালে বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপি-এ ৫, ২০১৫ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপি-এ ৫ এবং ২০২২/২৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিশারিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সদ্য ৪৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-পরিজনসহ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

আতাউর রহমান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল সরকারের একটি দায়িত্বশীল পদে কাজ করা। মহান আল্লাহ ও বাবা-মায়ের অশেষ কৃপায় আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এই সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের অবদান অনেক বেশি।”

আতাউর রহমানের বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, “আমি একজন ক্ষুদ্র কাঠ ও খড়ি ব্যবসায়ী মাত্র। এক সময় মিলের শ্রমিকের কাজ-কাম করে জীবন নির্বাহ করেছি। এরপর অনেক কষ্টে গত ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে কাঠ ও খড়ির ব্যবসা করে এক ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছি। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। মহান আল্লাহর রহমতে একমাত্র ছেলে আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। এজন্য লাখো লাখো শুকরিয়া। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন যেন সে সঠিকভাবে সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে।”

বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার জানান, “আতাউর রহমান আমাদের ছাত্র। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে ছেলের পড়াশুনা চালিয়েছেন। সে সদ্য ৪৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় এটি আমাদের প্রতিষ্ঠান ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের জন্য গর্বের।”