রংপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী সামুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো চীফ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর-৩ আসনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন আংশিক ও সদর উপজেলা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

এদিকে রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হওয়ায় তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

তিনি বলেন, রংপুরবাসী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। এবার সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের। আশা করি সেই সুযোগ রংপুরবাসী হাতছাড়া করবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি অতীতের মতো রংপুরবাসীর সুখে-দুঃখে ছিলাম, আমৃত্যু পর্যন্ত থাকতে চাই। অবহেলিত রংপুরবাসীর সেবা করতে চাই, উন্নয়ন করতে চাই।

এদিকে তার মনোনয়ন ঘোষণার খবরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন এবং শুকরিয়া আদায় করেছেন। অনেকেই আগামীতে ধানের শীষের পক্ষে নতুন উদ্যমে আরও ব্যাপক প্রচার-প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক অবস্থান, দলের প্রতি ত্যাগ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রথমে রংপুর সদর-৩ আসনে মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামুকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে গত ২৪ ডিসেম্বর তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় দলটি।

জানা গেছে, রংপুর সদর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সামসুজ্জামান সামু বর্তমানে রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

এর আগে তিনি রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত সামসুজ্জামান সামু ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরবর্তীতে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সম্মুখসারিতে থাকা বিএনপির এই নেতা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে। তিনি ২০ বার কারাবরণ করেছেন। শুধু জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৫ আগস্টের আগে তার নামে ২৫টি মামলা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ মামলায় তিনি প্রধান আসামি বা হুকুমে আসামি ছিলেন।

এমএ ডিগ্রিধারী সামসুজ্জামান সামু বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। রংপুরের সিনিয়র নেতা হিসেবে পরিচিত সামসুজ্জামান সামু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ওআইসির শীর্ষ সম্মেলনে সেনেগাল সফর করেন।

অবহেলিত রংপুরকে এগিয়ে নিতে তিনি সমৃদ্ধ রংপুর উন্নয়ন রূপকল্পের ১৯টি প্রস্তাবনা তুলে ধরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীসহ রংপুর মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। এতে দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।