নাফ নদীতে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি জেলে আহত
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমায় মাছ ধরার সময় মোহাম্মদ আলমগীর (৩০) নামে এক জেলে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে গুলিবিদ্ধ ঐ জেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নাফ নদীর হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত জেলে আলমগীর (৩৮) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আজও কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে, এর মধ্যে ওপার থেকে আসা গুলিতে স্থানীয় এক জেলে আহত হয়েছে।’
আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম জানান, ‘বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আলমগীর ও আরেক জেলে আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যংয়ের বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল নিক্ষেপ করছিলেন তারা, এ সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। এক পর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন।’
পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার দুপুরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পরপরই নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নদীতে জেলেদের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারেই রাখাইনের মংডু টাউনশীপের উত্তর মংডু অঞ্চল, যেখানকার ২৭১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০২৪ ডিসেম্বর থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনীর সাথে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তীব্র সংঘাতে লিপ্ত হয় যা এখনো চলছে। জাতিসংঘ সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা এই সংঘাত-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
এর আগে, গত ১৩, ১৭ ও সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর রাতে মিয়ানমার অংশ থেকে এপারে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
