হাড়কাঁপানো শীতে বোরো চারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের কৃষকরা
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৮ | অনলাইন সংস্করণ
সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বড় পরিসরে আবাদ লক্ষ্যে প্রস্তুত করা অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার প্রকোপ আরও বেড়েছে। চারা রক্ষায় প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে কৃষকেরা মাঠে নেমে পড়েছেন। কেউ পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিচ্ছেন, কেউ হালকা সেচ দিচ্ছেন। আবার কেউ পুষ্টি উপাদান ও কীটনাশক স্প্রে করছেন।
কৃষকেরা বলছেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে বাড়তি সময় ও খরচ, দুটোই বাড়বে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ।
বোচাগঞ্জ উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক প্রফুল্ল ও রহমান জানান, মিনিকেট ও হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদের লক্ষ্যে তারা বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহে প্রায় পাঁচ বিঘা জমির বীজতলার চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষতি কমাতে প্রায় দুই হাজার টাকার পলিথিন কিনে বীজতলা ঢাকার চেষ্টা করছেন তারা। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেলার অন্যান্য এলাকার কৃষকেরাও।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে।
শৈত্যপ্রবাহজনিত ক্ষতি কমাতে কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বীজতলা রক্ষায় ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ (কুইক বা ফাস্ট পটাশ), ৩০ গ্রাম থিওভিট ও ২০ গ্রাম চিলেটেড জিংক মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা সেচ এবং পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে চারা রক্ষা করা সম্ভব।’
