লালমনিরহাটে শীত ও কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ১০ দিন ধরে ঘন কুয়াশা, তীব্র শীত ও সূর্যের তাপ কম থাকায় শীতের তীব্রতায় জনজীবনে প্রভাব পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। শীত ও কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এ জেলার নদীপাড় ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। অনেকেই খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে শুধু মানুষই নয়, কষ্টে পড়েছে গৃহপালিত পশুপাখিও।

লালমনিরহাটে আবহাওয়া অফিস না থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়কপথে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজারের শিমুলতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের পরিবহন চালকরা জানান, সকাল থেকেই কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা খুব কম। রহমান নামের এক চালক বলেন, “হেডলাইট জ্বালিয়ে, হর্ন বাজিয়ে ধীরগতিতে ঢাকা অভিমুখে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আদিতমারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেকেই প্রাইভেট না পড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

শ্রমজীবী মানুষের কাজেও পড়েছে কঠিন স্থবিরতা। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কাজের গতি কমে গেছে। ঠান্ডার জন্য কাজে যাচ্ছে না অনেকে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। আদিতমারীর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আধার আলী জানান, “সকালে কাজে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও জীবিকার তাগিদে কষ্ট করে মাঠে যাচ্ছি।” তিনি জানান, অনেকেই ঠান্ডার কারণে কাজে যাচ্ছে না।

কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের ভ্যানচালক ইসলাম উদ্দিন (৪২) বলেন, “অতিরিক্ত ঠান্ডা থাকলেও ভোর থেকে ভ্যান চালাতে হচ্ছে। কিন্তু অনেক যাত্রী এত ঠান্ডায় ভ্যানে উঠতে চায় না।”

এদিকে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। নবজাতক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায় জানান, শীতকালে শিশুদের রোগের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশু সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিঁচুনির রোগীও দেখা যাচ্ছে।”

তিনি অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, “এই শীতে শিশুদের গরম পানি পান করাতে হবে। অসুস্থ হলে পুষ্টিকর খাবার, শাকসবজি ও তাজা ফলমূলের রস খাওয়ানো জরুরি।”

অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জানিয়েছে, শীতের তীব্রতা বিবেচনায় ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।