ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চাঁদপুরে বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী কোটিপতি, পিছিয়ে জামায়াত

চাঁদপুরে বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী কোটিপতি, পিছিয়ে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অধিকাংশই কোটিপতি। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন লাখপতি। বিএনপির এক প্রার্থীর নগদ টাকা কম দেখালেও কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি রয়েছে তিনটি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের টকশো থেকে বছরে আয় দেড় লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন পেশায় রাজনীতিক। তিনি নগদ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকার মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে বছরে আয় ৬ লাখ এবং টকশো থেকে আয় দেড় লাখ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র আছে দুটি। বিগত বছরে তার নামে মামলা ছিল ১৯টি। সবগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তিনি নগদ ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৫২৯ টাকার মালিক। শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি নগদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮০ টাকার মালিক। তার একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একটি লাইসেন্সকৃত গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ টাকা।

একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মোবিন পেশায় চিকিৎসক। তিনি নগদ ১৬ লাখ ৬২ হাজার ২৮০ টাকার মালিক। তার আয়ের উৎস বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাসেবা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিগত বছরে মামলা ছিল ৭টি। সবগুলো থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৭ টাকার মালিক। তার আয়ের উৎস ব্যবসা, স্ত্রীর আয় ও বাণিজ্যিক ভাড়া আদায়। তার দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান। একটি গাড়ি রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ছিল ১৪ লাখ টাকা।

একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া পেশায় আইনজীবী। তিনি নগদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৭ টাকার মালিক। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি নগদ ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮২ টাকার মালিক। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তার একটি টয়োটা ক্রাউন গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৩১ লাখ টাকা, একটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ যার মূল্য ৬৭ লাখ টাকা এবং একটি মাইক্রোবাস রয়েছে যার মূল্য ২৭ লাখ টাকা।

একই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী পেশায় শিক্ষক। তিনি নগদ ২০ হাজার টাকার মালিক। তার একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ টাকা রয়েছে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ১২২ টাকা। তার একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৪ টাকা।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মমিনুল হক পেশায় ব্যবসায়ী। বিগত দিনে তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল ৪টি। এর মধ্যে দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার নগদ রয়েছে ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২০ টাকা। তার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে, যার মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসাইন পেশায় শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে ১৩টি মামলা ছিল। এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ লাখ টাকার মালিক এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তার কোনো যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্র নেই।

পিছিয়ে জামায়াত,কোটিপতি,বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী,চাঁদপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত