হাজীগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এতিমখানার চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় সাতটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি জিআর (GR) প্রকল্পের ১২৬ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জিআর প্রকল্পের মাধ্যমে রাজারগাঁও ইউনিয়নের সাতটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দেড় মেট্রিক টন করে সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ৫০ কেজি ওজনের মোট ৩০ বস্তা চাল পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজীর সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চাল উত্তোলন করলেও বাস্তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১২ বস্তা করে চাল বিতরণ করা হয়। এতে করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ বস্তা করে চাল কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

যেসব প্রতিষ্ঠান বরাদ্দের তুলনায় কম চাল পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সেগুলো হলো হায়দার আলী হাজী কোরআনিয়া মাদ্রাসা মসজিদ কমপ্লেক্স ও এতিমখানা, রাজারগাঁও দারুসসুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং কমপ্লেক্স, আহমেদাবাদ দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা, পূর্ব রাজারগাঁও বায়তুল উলুম ইব্রাহীমিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, শামসুল উলুম তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা, তাহফিজুল কোরআন হাফেজীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং আহমাদাবাদ নাজিম উদ্দিন ইসলামিয়া মাদ্রাসা।

এই হিসাবে উল্লিখিত সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২৬ বস্তা সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চাল তারা বুঝে পাননি।

পূর্ব রাজারগাঁও তাহফিজুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা মাত্র ১২ বস্তা চাল পেয়েছি। মেম্বারের মাধ্যমেই চাল সংগ্রহ করেছি। আগে বরাদ্দ অনুযায়ী পুরো চাল পেতাম, এখন দেড় টন বরাদ্দ দেখালেও মাত্র ১২ বস্তা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে পূর্ব রাজারগাঁও বায়তুল উলুম ইব্রাহীমিয়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, “প্রথমে আমরা ১৩ বস্তা চাল পেয়েছি। এরপর আর কোনো চাল আসেনি।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গরিব, এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ একটি গুরুতর অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আলমগীর কাজী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

এ প্রসঙ্গে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরেও একাধিক মসজিদের টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল একই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।