মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তদন্ত কমিটি গঠন
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে গঠন করা তদন্ত কমিটিকে আদেশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নান সই করা এক আদেশে এমন তথ্য জানা গেছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, কোলপাওয়ারের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তা প্রধান, মহেশখালীর ইউএনও এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি।
আহ্বায়ক কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের আদেশ পেয়েছি। কিন্তু যেসব বিভাগকে সংযুক্ত করা হয়েছে, সেসব বিভাগের প্রতিনিধির নাম খুব শিগগির পেয়ে যেতে পারি। সবার নাম পেয়ে পুরো কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবো আশা করছি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লাগে। প্রায় ৯ ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে, এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ক্ষতি বা হতাহতও হয়নি। স্বাভাবিক রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে মহেশখালী, চকরিয়া ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটিসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলবাহিনীর একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের সংশ্লিষ্টরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পথশিশুদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারাই মূলত আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত এবং পুকুরসদৃশ একটি কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা। এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী সংরক্ষণ করা হতো। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন বয়লার এলাকা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত।
মাতারবাড়ির বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ৯টার পর হঠাৎ টাউনশিপের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডের গুদামে আমরা আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাই। রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।’
মাতারবাড়ির সমাজকর্মী ছমি উদ্দিন বলেন, ‘মাতারবাড়ি টাউনশিপের খোলা জায়গায় স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড গড়ে সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কাঠ, টিন, লোহার রডসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়। প্রায় সময় রাতের বেলা লোকজন ইয়ার্ডের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় বলে প্রচার রয়েছে। সম্ভবত ফেলে দেওয়া সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নান বলেন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের আসল রহস্য জানতে এডিসি রাজস্বকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
