জীবননগরে মাঠ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর মাঠে হারু শাহ্ এর মাজারের কাছে একটি ঘাসের জমি থেকে জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জাহিদ হাসান একই উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরকীয়া সংক্রান্ত কারণে কয়েকজনের সাথে তার বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হারু শাহের মাজারের পাশে একটি ঘাসের জমিতে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে জমির মালিক গোলাম রসুল ৯৯৯ এ কল দেন। পরে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে লাশটি খয়েরহুদা গ্রামের জাহিদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাশ শনাক্ত করেছেন।

নিহত জাহিদের ফুফাতো ভাই সাবেক মেম্বার আব্বাস জানান, গত রাত থেকে জাহিদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা একাধিক জায়গায় জাহিদকে খুঁজেছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি। পরে ফোনে জানতে পারলাম এখানে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে দেখি এটি আমার মামাতো ভাই জাহিদ।

তিনি আরও বলেন, পেয়ারাতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র প্রবাসী পারভেজ-এর স্ত্রী উর্মির সাথে জাহিদের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। আর এ কারণে তারা প্রায়ই জাহিদ-কে মেরে ফেলার হুমকি দিত। 

নিহত জাহিদের ভাই জানান, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পেয়ারাতলা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র প্রবাসী পারভেজ এর স্ত্রী উর্মি আমার ভাইকে বিভিন্নভাবে ডিস্টার্ব করত। আমরা একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কোনো সমাধান পাইনি। পরবর্তীতে গত রাতে তারা আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে হত্যা করতে পারে। 

এ ব্যাপারে প্রবাসী পারভেজের স্ত্রী উর্মীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, দীর্ঘ আট মাস আগে তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু এখন আমার তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই, তবে গত রাত ৯টার দিকে জাহিদ আমাকে ফোন দিয়েছিল, শেষবারের মতো দেখা করার জন্য কিন্তু আমি দেখা করিনি। আমি মৃত্যুর কারণ বা কোনো কিছুই বলতে পারব না।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, হত্যা না অন্য কোনো ঘটনা তা জানা যায়নি। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।