
পাবনায় শীতকালীন সবজি গাজর আবাদে আর্থিক সচ্ছলতায় ভাগ্য বদলেছে চাষীদের। এ অঞ্চলের অবহেলিত কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে গাজর আবাদ। কৃষি জমি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন এই সবজির ভালো ফলন হয়েছে। এবছর ১১৫০ হেক্টর জমিতে গাজর আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে গাজর চাষে খরচ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত গাজর বিক্রি হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পাবনা অঞ্চলের গাজর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় গাজর আবাদে বাড়ছে চাষীর সংখ্যা।
জানা গেছে, শীত মৌসুমের শুরুতে গাজরের ব্যাপক দাম পাওয়ায় আগাম গাজর চাষীরা করেছে বাজিমাত। ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে গাজরের দাম কিছুটা কমলেও ব্যাপক ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছে কৃষক।
এছাড়াও এখানকার গাজর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় বাজারে রয়েছে প্রচুর চাহিদা। ফলে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে গাজর চাষীর সংখ্যা।
কৃষকরা জানান, গাজর বীজ ও সারের উপর সরকারি ভর্তুকি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে সম্ভাবনাময় এই শীতকালীন সবজি পাবনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা। তবে গাজর আবাদে প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষকরা আরও জানান, গাজরের বীজ বপনের ৩ মাসের মধ্যে ফসল ওঠানো সম্ভব হয়। প্রতি বিঘা জমিতে গাজর চাষের জন্য খরচ হয় ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। তবে এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত গাজর ১ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।
এমনকি আগাম গাজর চাষীরা বিঘা প্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান তারা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা, সাহাপুর এবং সলিমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গাজরের আবাদ হলেও প্রায় সকল এলাকায় এখন এই সবজি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবছর শুধুমাত্র ঈশ্বরদীতেই ১১৫০ হেক্টর জমিতে গাজরের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
গাজর চাষী আজিম বলেন, এবছর ১০ বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, বাজারে দামও মোটামুটি ভালো। উৎপাদিত গাজর মান অনুযায়ী বিঘা প্রতি ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গাজরের বীজ ও সারের দাম একটু কম হলে আমরা বেশি লাভবান হতে পারি।
আরেক গাজর চাষী নাছির উদ্দিন বলেন, এবছর প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে আমি গাজর চাষ করেছি। নিজের চাষকৃত গাজরের পাশাপাশি আমি অন্যের ক্ষেত থেকে গাজর কিনে বিক্রি করি। সার ও বীজের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে, যে কারণে অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হচ্ছে। বাজারদর ভালো আছে, আশা করছি খরচ বাদ দিয়ে এবছর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভ থাকবে।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, ঈশ্বরদীতে প্রতি বছরই বাড়ছে গাজর চাষ। এ বছর ১১৫০ হেক্টর জমিতে গাজর চাষ হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও ফলন খুব ভালো হয়েছে। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে ৪০ থেকে ৫০ মেট্রিক টন গাজর উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে গাজর চাষীদের বীজ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। তবে গাজর আবাদে অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।