ঈশ্বরদীতে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৩
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আলমাস আলী, ঈশ্বরদী (পাবনা)

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়ক-মহাসড়কে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঈশ্বরদীর সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫৬টি। এতে নিহত হয়েছেন ২৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭১ জন।
ঈশ্বরদীর পাকশী হাইওয়ে পুলিশ, ঈশ্বরদী থানা এবং ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সড়কগুলোতে ট্রাক-বাস, অটোরিকশা, অটো, ভটভটি ও মোটরবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। নতুন নতুন আইন করেও দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। ট্রাফিক আইন না মানা, কিশোর বয়সী ছেলেদের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলাচল ও বেপরোয়া গতিতে অন্যান্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী-পাবনা, দাশুড়িয়া-মুলাডুলি, দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া, দাশুড়িয়া-পাবনা সড়ক-মহাসড়কে দিন দিন যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। সড়কে মূলত যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, হাইচ, ট্রাক, সিএনজি ও মোটরবাইক, বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় প্রায়শই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। মামলা করার পরও চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। গ্রামীণ সড়কগুলোতেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার মতে, ঈশ্বরদীতে যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। বিশেষ করে মোটরবাইক প্রচুর। অধিকাংশ চালক ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালান না। ওভারটেক আর নির্দিষ্ট গতিবেগের চাইতে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোয় সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
উপজেলার দাশুড়িয়ার সনি পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের মালিক আবুল হাশেম বলেন, যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সড়ক প্রশস্ত করার কোনো উদ্যোগ নেই। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হলে প্রতিটি সড়কের মাঝে ডিভাইডার থাকতে হবে। যারা বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালান, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা ও অবৈধ যানবাহন চলাচল রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মীর আমিরুল ইসলাম বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা হোক এটা আমরা কখনোই চাই না। ট্রাফিক নিয়ম না মেনে যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমি মনে করি। কিছু কিছু দুর্ঘটনা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। এগুলো বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
পাকশী হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ (এসআই) মো. নান্নু খান বলেন, ‘ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ি চালানো, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, সড়কে খানাখন্দ, অপ্রশস্ত সড়ক, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ড্রাইভারদের অজ্ঞতা বা অনীহা, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক ইত্যাদির কারণেও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে মোটরবাইক চালকের অধিকাংশই তরুণ-যুবক। এরা বেপরোয়া গতিতে মোটরবাইক চালায়। এ কারণে মোটরবাইক দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে।
