বিজিবির হাতে ১৬৪ কোটি টাকার চোরাই পণ্য আটক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৭২ জন আসামিসহ প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল ও সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়া ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান বিজিবি উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইল-এর পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন।
সেক্টর কমান্ডার জানান, বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৪২৭ কিমি. (ভারতের সাথে ৪ হাজার ১৫৬ কিমি. এবং মায়ানমারের সাথে ২৭১ কিমি.) সীমান্তের মধ্যে সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিমি. এলাকা বিস্তৃত। এই সীমান্তে বিজিবি সরাইল রিজিয়নের ৪টি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিট চোরাচালান প্রতিরোধসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ ও বিজিবির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিট সমূহের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ১ নভেম্বর ২০২৫ হতে এ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৭২ জন আসামিসহ ১৬৪ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৭২ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল ও ৫ কোটি ৪৭ লক্ষ ৩০ হাজার ২৯২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করে। পাশাপাশি ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টর (সিলেট, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল এবং ময়মনসিংহ সেক্টর)-এর ১৩টি ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যদের ১৭টি জেলার ৫৬টি উপজেলার মোট ৯২টি সংসদীয় আসনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে নিয়োজিত থাকবে। রিজিয়নের সকল বিজিবি সদস্য সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আসন্ন নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, উৎসবমুখর, স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেজন্য বিজিবি কর্তৃক টহল তৎপরতা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও পর্যাপ্তসংখ্যক জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক বেইজ ক্যাম্প স্থাপন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সকল ভোটকেন্দ্র সমূহ রেকীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে ও পর্যায়ক্রমে দ্রুততার সাথে রেকী সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়াও নির্বাচনে মোতায়েনকালীন সময়ে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো ও ত্বরিত কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
