মনোরেল বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এ সভায় নগরের ভৌগোলিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

এতে অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট প্রজেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন, চট্টগ্রাম ট্রান্সপোর্ট ফিজিবিলিটি প্রজেক্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রাকিব, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী শাফকাত, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলী ও জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম একটি পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরী। এখানে পর্যাপ্ত প্রশস্ত সড়ক নেই, রয়েছে পাহাড়, খাল, বন্দর এলাকা ও বিস্তৃত ইউটিলিটি লাইন। বড় আকারের জমি অধিগ্রহণ সামাজিকভাবে সংবেদনশীল ও বাস্তবায়ন জটিল। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের জন্য হালকা, নমনীয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, মনোরেলে সরু পিলার ব্যবহার করা হয়, ফলে রাস্তার জায়গা খুব কম লাগে। সরু রাস্তা, খাল ও পাহাড়ের ওপর দিয়ে তুলনামূলক সহজে নির্মাণ সম্ভব। মেট্রোরেলের তুলনায় ইউটিলিটি স্থানান্তরের প্রয়োজন কম এবং নির্মাণকালে ট্রাফিক ও নগরসেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে না। অন্যদিকে মেট্রোরেলের জন্য প্রশস্ত করিডর, ভারী নির্মাণ কাজ ও গভীর ফাউন্ডেশন প্রয়োজন হয়, যা চট্টগ্রামের মতো নগরে বাস্তবায়নকে জটিল করে তোলে।

সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী। এখানকার যানজট নগরবাসীর জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কার্যকর ভূমিকা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি প্রারম্ভিক স্টাডি চলমান রয়েছে। এই স্টাডির মাধ্যমে মনোরেল ছাড়াও অন্য কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা চট্টগ্রামের জন্য অধিক উপযোগী কি না— তা যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।

“সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করব না। যে ব্যবস্থা সবচেয়ে সাশ্রয়ী, সময়োপযোগী এবং শতভাগ জনগণের জন্য উপকারী হবে— আমরা সেটিই গ্রহণ করব” বলেন মেয়র।

মেয়র সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে কমানো সম্ভব হয়েছে। একই ধরনের সমন্বয় বজায় রাখা গেলে মনোরেলসহ বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে।

তিনি নগর সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যা নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভা শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম নগরের জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।