বেনাপোলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অসংখ্য অতিথি পাখির মৃত্যু

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের বেনাপোল ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক সাথে অসংখ্য অতিথি পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ারিং অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে, বেশ কিছুদিন যাবৎ হাই-মাস্ট লাইটের আশেপাশে দুই-একটি পাখি মৃত দেখা গেলেও কেউ এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করেনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ইয়ার্ড এলাকায় একই ল্যাম্পপোস্টের নিচে বিদ্যুৎ সংযোগ বস্কের তালা খুললে তার ভিতরে প্রায় ত্রিশটি মৃত পাখি দেখা যায়। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বন্দরের মধ্যে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই অবস্থা। তবে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই অতিথি পাখিগুলো আবাবিল পাখি হতে পারে। রাতে তীব্র আলো ও ঠান্ডার কারণে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টে খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে রক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় পাখিগুলো বিদ্যুৎ শকের শিকার হয়। এতে পাখিগুলোর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি স্পষ্টতই ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ লাইনের সুরক্ষিত কাভার, ইনসুলেশন ও বন্যপ্রাণী-নিরাপদ নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতির কারণে বারবার বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজা-র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি, আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে আমি ঢাকায় চিঠি দিয়ে দেবো।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দায়ী ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্যপ্রাণী বান্ধব ভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।