বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার বিকেলের দিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রের তিন ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে, সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়। সাত দিন পর ২৬ অক্টোবর পুনরায় উৎপাদনে ফেরে কেন্দ্রটি।

জানা যায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ দিন পর, গত ১৪ জানুয়ারি পুনরায় উৎপাদনে আসে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সকালে ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের টিউব পুরোপুরি ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে এর মেরামত কাজ শুরু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে, তা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এবার উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো হওয়ায় প্রতি পাঁচ বছর পর পর বড় ধরনের মেরামত প্রয়োজন হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পরিচালিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আবার তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

তারপরও আশা করা হচ্ছে, আগামী মার্চ মাসে উৎপাদনে ফিরতে পারে। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশ আনতে দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে।