জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অপু
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২১ | অনলাইন সংস্করণ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে জুলাই বিপ্লবীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহবায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর।
ছাত্র-তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ নির্বাচনী সমঝোতা করলেও তিনটি উপজেলা বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে হাসিবুর রহমান অপু বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ও মানুষের ভালোবাসার মূল্য দিতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ এলাকার বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনা রয়েছে তিন উপজেলায় কম করে হলেও ১০টি শিল্পকারখানা গড়ে তোলার, যাতে এ এলাকার আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়। এছাড়া সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। জুলাই বিপ্লবের যে তাজা রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই জনপদের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করবো।
তিনি আরও জানান, দল জোটবদ্ধ হওয়ার আগেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বাতিল করলেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সেটিকে বৈধ ঘোষণা করে, যা এখনো বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে আমার এলাকার জনগণ চায় আমি নির্বাচন করি। তারা আমাকে ছাড়তে রাজি নয়। আমি এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করেই রাজনীতি করি। জনগণ ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। দল যদি কোনো সিদ্ধান্ত জানায়, তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।”
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দলীয় শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
