গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরলেন সৈয়দা রিজওয়ানা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজবাড়ী প্রতিনিধি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে, এ নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহের অবকাশ নেই। সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং ভোটার—সবাই এ নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ র‌্যালির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের কারণে সমাজে এখনো ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লোক ভোট ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গুজব সৃষ্টি করছে। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সাহসের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জনগণকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়িত করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। অনেক মানুষের জীবনে এটিই প্রথম গণভোট। এই গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে তারা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ চায় কি না।

অনুষ্ঠান শেষে তার নেতৃত্বে রাজবাড়ী শহরে একটি বর্ণাঢ্য গণভোট প্রচার র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এরপর ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই যোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন এবং উপদেষ্টা তাদের প্রশ্নের জবাব দেন।

মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, “যার জানাজায় ১২ লাখ মানুষ শরিক হয়েছেন, তার অর্থ হলো, এই দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসতো এবং তার হত্যাকাণ্ডকে কতটা ঘৃণার চোখে দেখেছে। সেই জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বিচারের দাবিকে রাষ্ট্রের কাছে রেজিস্টার করেছে।”

জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ।

সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।