নারায়ণগঞ্জে সওজ’র উচ্ছেদ অভিযান, ৫০ কোটি টাকার জমি উদ্ধার
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হয়।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের স্টেট অফিসার মো. আশফাকুল হক চৌধুরী এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় সড়ক ও জনপথের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, বাস কাউন্টার, বাসের গ্যারেজ এবং তৈরি পোশাকের কারখানা ও গোডাউনসহ অন্তত অর্ধশতাধিক স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও ডিপিডিসির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও উচ্ছেদ কার্যক্রম ঘিরে ভোগ-দখলকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠে এসেছে।
উচ্ছেদ হওয়া মনির স্টোরের মালিক মনির বলেন, ‘এলএ ৬৭-৬৮/১৪ নম্বর সরকারি এই ভূমি উচ্ছেদ করা হলেও এই জায়গার লিজের মেয়াদ এখনো রয়েছে এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে, যার রিট নম্বর ৭০১৮/১৪।’
তিনি আরও বলেন, উভয়েরই হাইকোর্টে রিট থাকলেও আজ পারিজাতের দখলে থাকা জমি উদ্ধার করা হয়েছে, অথচ ভারটেক্সের জমি উচ্ছেদ হয়নি, যা বোধগম্য নয়।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া যেন নিরপেক্ষ ও সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। উদ্ধার অভিযান প্রকৃত শুদ্ধি অভিযানে পরিণত হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, যাদের দখল অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, কেবল তাদেরই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উচ্ছেদকালে সড়ক ও জনপদের ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন টিনশেডের ঘর, দোকানপাট, কারখানা ও গোডাউন ছিল। আমাদের জায়গায় কিছু গাড়ি রাখা ছিল, সেগুলো আমরা সরিয়ে দিয়েছি। পাশাপাশি সাইনবোর্ড মোড়ে বেশ কিছু বাস কাউন্টার ছিল, সেগুলোও আমরা উচ্ছেদ করেছি।
এ অভিযান নিয়মিতই পরিচালিত হবে বলে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
