চুয়াডাঙ্গায় মাসব্যাপী যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৬০৬ মামলা

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল ও যানবাহনের বিরুদ্ধে এক মাসব্যাপী ধারাবাহিক চেকপোস্ট অভিযানে ৬০৬টি মামলা হয়েছে।

এ সময় জরিমানা আদায় করা হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১২৪টি যানবাহন।

জেলা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আওতায় ছিল হাসান চত্বর, কোর্ট মোড়, একাডেমি মোড়, আলমডাঙ্গা লাল ব্রিজ মোড়, দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড, দর্শনা বাসস্ট্যান্ড, থানা মোড় এবং জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

এই সময়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট পরীক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়।

তবে অভিযানের মধ্যেও স্যালো ইঞ্জিনচালিত আলমসাধু, লাটাহাম্বার, ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন নীরবে চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে সমানভাবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও ছোটখাটো দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) এডমিন আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিয়মিত চেকপোস্টে সব ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের পাশাপাশি নসিমন, করিমন, টেকটার, পাওয়ার টিলার, ইজিবাইক ও লাটাহাম্বসহ অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, চেকপোস্টে যানবাহন তল্লাশির মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন রোধে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিয়মিত চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আগামী দিনে ধাপে ধাপে জেলার সব ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং একে একে এসব বন্ধ করা হবে।”

জেলা প্রশাসক আরও জানান, লাটাহাম্ব, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও পাখিভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহনকে আইনের আওতায় আনা হবে। এসব যানবাহন একদিকে সড়কে যানজট সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ফেলছে। ভবিষ্যতে আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এদিকে শহরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ যানবাহনের দাপটে জনভোগান্তি বাড়লেও বাস্তবে কতটা সমানভাবে আইন প্রয়োগ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।