দিনাজপুরে এলপি গ্যাসের সংকট, বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে সিলিন্ডারপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক জায়গায় বেশি অর্থ দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারকারী সাধারণ ভোক্তারা।

দিনাজপুর শহরের কালীতলা এলাকার মাজহারুল ইসলাম রেঞ্জুর ডিলার পয়েন্টে গিয়ে জানা যায়, গ্যাসের সরবরাহ একেবারেই সীমিত। অনেক ক্রেতা খালি সিলিন্ডার জমা দিলেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডারপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহনলাল নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমরা খালি সিলিন্ডার জমা দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। বাসায় গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎচালিত চুলা ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

একই অভিযোগ করেন রহমান নামে আরেক ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে বাসার সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। ডিলার পয়েন্টে এসেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। রান্নাবান্না নিয়ে আমরা চরম অসুবিধায় আছি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে আমাদের মতো গ্রাহকরা উপকৃত হবে।’

এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের ক্রেতা আব্দুল বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী গ্যাস সিলিন্ডার লুকিয়ে রাখছে। তবে বেশি দাম দিলে সেগুলো বিক্রি করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।’

দিনাজপুর কালীতলার এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার মোজহারুল ইসলাম রেনঞ্জু বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গ্যাস সরবরাহকারীদের আন্দোলনের কারণে সিলিন্ডার সরবরাহ একেবারে কমে গেছে। আমাদের কাছে অল্প কিছু সিলিন্ডার ছিল, সেগুলোই বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো সিলিন্ডার নেই। তবে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেওয়ায় আমরা নতুন করে খালি সিলিন্ডার কোম্পানিতে পাঠাচ্ছি। কয়েক দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় কোম্পানিতেও লাইনে দাঁড়িয়ে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আশা করছি, আগামী দু-একদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তখন ন্যায্য দামে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হবে।’

দিনাজপুর ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক বোরহানউদ্দিন বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখিয়ে অনেক দোকানি অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে— এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত কয়েক দিনে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন দোকানিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন আলাদাভাবে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু অর্থ জরিমানা আদায় করেছে।’