তাড়াইলে বোরো চারা রোপনে ব্যস্ত কৃষক
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ
তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমিতে পানি দেওয়া, চাষ, আগাছা পরিষ্কার, মই টেনে জমি সমান করা, সার প্রয়োগ এবং বীজতলা থেকে চারা তোলাসহ নানা কাজে দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাটি বোরো চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকই মাঠে নেমে পড়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদী কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৬৫ হেক্টর। বোরোর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫৪৯ হেক্টর জমিতে। আজকের দিন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছে উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নের কৃষকগণ। এর মধ্যে ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ১০২, ব্রিধান ১১৪, ব্রি ধান ৮১, বিনা ধান ২৪, বিনা ধান ৩৫, ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯ জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক চান্দু ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান, ফজলুর রহমান এবং সহিলাটী গ্রামের কৃষক শাহাব উদ্দীন বলেন, এলাকায় শ্রমিক সংকটে বেশি মজুরি দিয়ে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। দিনরাত পরিশ্রম করে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে। এ ছাড়াও গতবছরের চেয়ে এবছর খরচ বেশি হচ্ছে। যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কৃষক সুরুজ আলী (২২ কাটা), সারোয়ার হোসেন সুমন (৩২ কাটা) ও বায়জিদ খান (৪৮ কাটা) জমিতে এবছর বোরোর আবাদ করছেন। প্রতি কাটা জমিতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তারা। ভালো ফলন হলে প্রতি একরে ৭০ থেকে ৮০ মণ ধান হবে। বর্তমানে প্রতি মণ ধানের দাম ১৩শ' থেকে ১৪শ' টাকা।
বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ শীত উপেক্ষা করে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমা করছেন। আবার কেউ পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করে জমি তৈরি করছেন। আবার কোথাও কোথাও কৃষকরা তাদের তৈরিকৃত জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন। কোথাও গভীর অথবা অগভীর সেচযন্ত্র দিয়ে জমিতে পানি তুলছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা একটু কমে গেলেই কৃষকরা পুরো দমে নেমে যাবে মাঠে। সেই হিসেবে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে ধারণা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তারা বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন।
বোরে চাষিরা যেন সঠিকভাবে ফসল চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে পারে, সে দিকে লক্ষ রেখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলার সকল কৃষকদের বোরো ধান চাষে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমির রোপণ কাজ শেষ হবে। রোপণ শেষ হলে পরবর্তীতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি স্থাপন করা হবে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে বোরো ধান আবাদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
