রাজশাহীর বেলপুকুরে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩, চালক আটক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর বেলপুকুর থানা এলাকায় গত (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস সজোড়ে পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশায় থাকা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ই বিভাগের ছাত্র শান্ত ইসলামসহ ৩ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনার সাথে সাথেই বাস চালক দ্রুত বাস চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে গুজব ছড়ানো হয় যে পুলিশ বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।
এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতা উত্তেজিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করতে না দেওয়াসহ বেলপুকুর থানার ওসি এবং একজন এসআইকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে এবং এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করে তার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অপরাধে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাস চালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজ শুরু করে। সোমবার ঘাতক বাস চালক সাইফুল ইসলাম (৪৮) কে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাইফুল ইসলাম নাটোর সদরের কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়ার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত বাস চালককে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, পুলিশ ঘটনার তারিখ রাতেই রাজকীয় পরিবহনের ঘাতক বাসটি আটক করে। অপরদিকে ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে পুলিশ এসল্ট মামলার আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার বিকেলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা করা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান করার মূল হোতা হাসানুর রহমান তুহিন (২৬) কে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। সে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে।
