যশোরে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান ড. শফিকুর রহমানের

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  বেনাপোল প্রতিনিধি

জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে দাঁড়িপাল্লায়ও হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেবেন। যারা রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে পরিবর্তন চান, যারা রাষ্ট্রের সংস্কার চান, যারা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চান, যারা এ রাষ্ট্রের সিস্টেমের পরিবর্তন চান—তারা হ্যাঁ-এর পক্ষে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন।

আর যারা পরিবর্তন চায় না, যারা স্বৈরাচার শাসক হতে চান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের রাজ্য তৈরি করে আধিপত্য বিস্তার করতে চান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান না—তারা না-এর পক্ষে ভোট দেবে। কারণ তাদের জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নেই। শুধু তারাই না-এর পক্ষে ভোট দেবে। তারা এই রাষ্ট্রের নায়ককে আবারও শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার সরকার করতে উৎসাহী।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমিরে জামাত ড. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের মতো আবারও কিছু অশুভ চক্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ, নেতিবাচক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব মিথ্যাচার করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। ভুলভাল বুঝিয়ে মানুষকে বিপথগামী করা যাবে না। পতিত সরকারের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা যে পথে গেছে, তাদেরও সেই পথে যেতে হবে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে, নিজের ন্যায্যতা আদায় করতে শিখেছে। প্রয়োজনে মানুষ আবারও রাস্তায় নামবে। তবে কোনো অশুভ শক্তির হাতে রাষ্ট্রকে তুলে দেবে না।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানুষ অপেক্ষা করবে। ১২ ফেব্রুয়ারিতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যালটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। জনগণ যদি আমাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে জয়ী করে, আমরা এই রাষ্ট্রকে আদর্শ রাষ্ট্রে রূপান্তর করব। এখানে কোনো ধর্ম-বর্ণের বিভেদ থাকবে না। মানুষে মানুষে বৈষম্য থাকবে না। যার যতটুকু প্রাপ্য, তাকে ততটুকু দেওয়ার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, অনেকে বলে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানুষ যেমন খুশি তেমন পোশাক পরতে পারবে না। আমরা বলি কথাটা সঠিক নয়। যে কেউ শালীনতার সঙ্গে যেকোনো পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে পারবে। কাউকে জোর করে পোশাক পরানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কাজ নয়। একটি অশুভ চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এর আগে যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, যশোর ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা। খুলনা বিভাগের আগে যশোর জেলার অবস্থান। অথচ এই জেলায় দীর্ঘদিনের মানুষের দাবির পরও সিটি কর্পোরেশন হয়নি। এমনকি এ জেলায় কৃষি বিপ্লব ঘটেছে। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আজও পর্যন্ত জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় এলে যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, যশোর-১ আসনের মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেউদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের আব্দুল কাদের, যশোর-৪ আসনের অধ্যাপক গোলাম রসুল, যশোর-৫ আসনের গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের মুক্তার আলী সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীসহ জেলার নেতৃবৃন্দ।

সবশেষে আমিরে জামাত ড. শফিকুর রহমান যশোরের ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।