নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  মোশতাক আহমেদ শাওন, নারায়ণগঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত একাধিক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক উঠেছে। এছাড়াও একে অপরকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজন প্রার্থী ও সমর্থককে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে এসব প্রতিহত না হলে প্রয়োজনে একযোগে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান একাধিক প্রার্থী।

তাদের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির বলেছেন, যেকোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্বাচন পরিবেশ নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মসীহকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ১০ জানুয়ারি সোনারগাঁ পৌরসভা এলাকায় ধর্মীয় বিষয়ে তালিম দেওয়ার কথা বলে তিনি নারীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রচারপত্র বিতরণ করেন। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম তাকে এ জরিমানা করেন।

এদিকে, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের পোস্টার ব্যক্তিগত গাড়িতে লাগানোর দায়ে তার এক সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুর রহমানের কাছে দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ইউএনও আসাদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার তিনি পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছেন। একটিতে আগের রাতে তার ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যটিতে গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর এলাকায় প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুটি অভিযোগই বিচারকদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর বিরুদ্ধেও দুটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগ তদন্ত শেষে অনুসন্ধান কমিটি তাকে সতর্ক করেছে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন, যিনি এ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে পোস্টারে একসঙ্গে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ ও তার নিজ দলের প্রতীক খেজুর গাছ ব্যবহার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। গত রোববার আরেকটি অভিযোগ জমা পড়ে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে- তিনি ধর্মীয় সভায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। দ্বিতীয় অভিযোগটি তদন্তের জন্য অনুসন্ধান কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড়ে এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্প সড়কের উপর স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেলে উভয় প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে লিখিত আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের নির্বাচনি এজেন্ট ও তার স্ত্রী নার্গিস আক্তার। অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান রেনু জানান, গত ২৩ জানুয়ারি এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।