সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার রবি মৌসুমে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বারো মাসেই হাইব্রিড মরিচ চাষ করছে কৃষকেরা। দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৬’শ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। এ জেলার চৌহালী, বেলকুচি, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মরিচ চাষ করা হয়েছে। তবে এসব উপজেলার চরাঞ্চলে কৃষকেরা লাভজনক হাইব্রিড মরিচের চাষ করে থাকে সারা বছরই। রোপা আমন ধান কাটার পর বেশিরভাগ জমিতে দেশীয় মরিচ চাষ শুরু হয়।
কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের চর এলাকার অনেক কৃষক সারা বছরই লাভজনক হাইব্রিড এ মরিচ চাষ করছে। কৃষক ওমর আলী প্রায় ৫ বিঘা জমিতে এবার হাইব্রিড মরিচের চাষ করেছেন। এ চাষে গত বছরের চেয়ে এবার আরো লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। তবে হাইব্রিড জাতের মরিচ অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন হয়ে থাকে। এ মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ধানের তুলনায় মরিচ চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। জমিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে মরিচের বীজ বোপণ করা হয়। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মরিচ গড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে মরিচ তুলতে কৃষক কৃষাণীরা এখন ব্যস্ত। অনেক কৃষকই তাদের মরিচ ক্ষেত পাহাড়া দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে ভালো দামে এ মরিচ ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করছে। অনেক কৃষক অধিক লাভের আশায় এ মরিচ রোদে শুকাচ্ছেন। এছাড়া শহর বন্দরসহ প্রভাবশালী হাট বাজারে মরিচের আড়ৎও গড়ে উঠছে ইতিমধ্যেই। এসব আড়ৎ থেকে কাচা ও শুকনা মরিচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে এবং স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেও বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, রবি মৌসূমের মরিচের চেয়ে বারো মাসেই হাইব্রিড কাঁচা মরিচের উৎপাদন বেশি। কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ মরিচ চাষাবাদ করছে এবং এখনও বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি।
এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মরিচ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
