যমুনার ভাঙ্গনে নিঃস্ব, বৃদ্ধার অসুস্থ ছাগল বাঁচানোর আকুতি
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

‘হে আল্লাহ আমার শেষ সম্বল অসুস্থ ছাগলটি ভালো করে দাও। তুমি ছাড়া এ দুনিয়ায় আর কেউ নাই।’ এ আকুতি করছেন, যমুনার ভাঙ্গনে নিঃস্ব সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরী গ্রামের অসহায় ছোরহাব আলীর স্ত্রী রহিমা বেগম (৬৫)। ওই বৃদ্ধার অসুস্থ ছাগল বাঁচানোর জন্য গ্রামাঞ্চলের কবিরাজি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতেও তার ছাগল এখনও ভালো হচ্ছে না।
শুক্রবার বিকেলে পাঁচঠাকুরী ওয়াবদা বাঁধের আঙ্গিনায় বসবাসকারী রহিমা বেগমকে তার অসুস্থ ছাগলের শরীরে পানি ঢালতে দেখা যায়। এ সময় তার এক ভাতিজা বউ সহযোগিতা করছেন।
তার এ দৃশ্য প্রতিবেদক ক্যামেরায় বন্দি করেন এবং প্রতিবেদকের এক প্রশ্নোত্তরে তিনি করুন আক্ষেপ করে বলেন, রাক্ষসী যমুনা নদীর দফায় দফায় ভাঙ্গনে দীর্ঘদিন আগে ভিটে বাড়িসহ সহায় সম্বল নদী গর্ভে চলে গেছে।
বর্তমানে পাঁচঠাকুরী ওয়াবদার তীর মাথার আঙ্গিনায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছি।
যমুনায় ভাঙ্গন ও বন্যার সময় কিছু ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়া আমাগোরে দেখার মতো আর কেউ নাই। সারাবছরই নানা কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়। এরমধ্যে আমার পালিত ছাগলটি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং বিশেষ করে ছাগলটি প্রসাব পায়খানা করছে না। এজন্য কয়েকদিন ধরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের ওষুধ খাওয়ায়ে কাজ হচ্ছে না।
অবশেষে এক কবিরাজের পরামর্শে ছাগলের শরীরে পানি ঢালা হচ্ছে। এ পানিতে তার অসুস্থ ছাগলের প্রসাব পায়খানা হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছে ওই কবিরাজ।
স্থানীয়রা বলছেন, অসহায় রহিমা বেগম তার অসুস্থ ছাগল বাঁচানোর জন্য নানা রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এ ছাগল চিকিৎসার জন্য পশু হাসপাতালে নেয়ার মতো সামর্থ্য নাই। অবশেষে কবিরাজের পরামর্শে ছাগলের শরীরে পানি ঢেলেও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে ওই বৃদ্ধা এখন দুশ্চিন্তায় জীবন যাপন করছেন।
এদিকে বৃদ্ধার অসুস্থ ছাগল চিকিৎসার জন্য স্থানীয়দের সহযোগিতা করা উচিত বলে বিশিষ্টজনেরা এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
