মানিকগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের পর মায়ের মৃত্যু, তদন্ত দাবি পরিবারের

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ

সন্তান জন্ম দিতে এসে লাশ হয়ে ফিরেছেন আসমা খাতুন (৪৫)। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাঁচা বাজার সংলগ্ন ল্যাব ২৪ ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসমা খাতুনের পূর্বে একবার বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে সন্তান না হওয়ায় পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য স্বামী আকবর আলী ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে ল্যাব ২৪ ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতালে ভর্তি হন আসমা।

হাসপাতালে ডাক্তার সুলতানা নাসরীনের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করেন ডাক্তার নূরে আলম সিদ্দিকী। অপারেশন থিয়েটারেই আসমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরবর্তীতে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই আসমা খাতুনের মৃত্যু হয়।

আসমার স্বামী আকবর আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়েছিল। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হলেও সেই রিপোর্ট আসার আগেই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

আসমার শাশুড়ি ও তার বোন রেশমা খাতুন বলেন, “রিপোর্ট হাতে আসার আগেই আসমাকে ওটিতে নেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটার থেকে বলা হয় রক্ত লাগবে। দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করি। তারপরও আসমাকে বাঁচানো গেল না। ছোট্ট এই শিশুটিকে নিয়ে আমরা এখন নিরুপায়।”

এ বিষয়ে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডাক্তার নূরে আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। অপরদিকে, অপারেশনকারী চিকিৎসক ডাক্তার নাসরিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ল্যাব ২৪ ডায়াগনস্টিক এন্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রোগীর আগেই শারীরিক সমস্যা ছিল।” তবে কী সমস্যা ছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন এ,কে, এম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ডেলটা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একের পর এক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় মানিকগঞ্জবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।