জনগণের মুখোমুখি চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থীরা

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’ স্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জনগণের মুখোমুখি হয়েছে চাঁদপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা।

রোববার বিকেল ৩টায় শহরের বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সুজন এর প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে রাজনৈতিক প্রথাগত ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

আয়োজনের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে নিয়ে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা। তিনি বক্তব্যে প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলার বিষয়টি তুলে ধরেন।

চাঁদপুর-৩ আসন কেমন হবে, প্রার্থীরা কি ভাবছেন এবং ভোটারদের প্রত্যাশা কি এ বিষয়ে ৩ জন ভোটার প্রশ্ন করেন। সকল প্রশ্নের উত্তর ও প্রার্থীদের নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া, ইসলামী ফ্রন্ট এর মনোনীত প্রার্থী এএইচএম আহসান উল্যাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। 

উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন। তবে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন করায় বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

নির্বাচনী এলাকা নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা বিষয়ে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, মাওলানা আব্দুর রউফ, জসিম উদ্দিন মাল, সমাজকর্মী রোজিনা আফরোজ মুক্তা।

তারা চাঁদপুরের নদী ভাঙন প্রতিরোধ, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক ৪ লেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে স্টেশনগুলো চালু করা, নতুন ট্রেন চালু করা, চাঁদপুর-কক্সবাজার ট্রেন চালু করা, বড় স্টেশন মোলহেডকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যানজট নিরসন, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার বিষয়গুলো বক্তব্যে তুলে ধরেন।

প্রার্থীদের বক্তব্যের পূর্বে তাদের অঙ্গীকারনামার সারাংশ তুলে ধরেন সুজন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন।

প্রার্থীদের বক্তব্যে এইচএম আহসান উল্যাহ বলেন, রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার হলে কোরআন ও সুন্নার আলোকে রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবেন। বিজয়ী না হলেও তিনি বিজয় প্রার্থীর সাথে থেকে উন্নয়নে কাজ করবেন।

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সুজনের অঙ্গীকারে জুলাই আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় তিনি অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেননি। এটি সংশোধন করে দিলে তিনি স্বাক্ষর করবেন। এছাড়া তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য চাইলে উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন না। তিনি সকলের অংশগ্রহণে চাঁদপুরের উন্নয়ন করার অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, দল থেকে তারেক রহমানের ঘোষিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি নির্বাচিত হলে চাঁদপুরে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে চেষ্টা করবেন। তিনি সকলের কাছে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন বক্তব্যে বলেন, ভোটে প্রতিযোগিতা হবে, তবে জনে জনে নয়। নিরাপদ ভোটের পরিবেশ চান এই প্রার্থী। তিনি বলেন, চাঁদপুরের জুটমিলগুলো চালু করা এবং চরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন করা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব দূর হবে।

প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া বক্তব্যে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকায় ন্যয় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। চাঁদপুরবাসীর প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন প্রতিরোধ, সরকারি হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবে রূপ দেওয়ার বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
এরপর অনুষ্ঠানে ভোটারদেরকে অঙ্গীকার পাঠ করানো হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভোটার এএইচএম আহসান উল্যাহকে প্রশ্ন করেন তিনি নির্বাচিত হলে ওসমান হাদির বিচার করবেন কিনা। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই দেশের প্রচলিত নিয়মে এর বিচার হবে।

প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদকে প্রশ্ন করা হয় তিনি নির্বাচিত হলে অন্ধদের নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন। উত্তরে তিনি বলেন, তারেক রহমান অন্ধসহ সকল প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের জন্য যে পরিকল্পনা করেছেন তা বাস্তবায়ন করবেন। আরেক ভোটারের প্রশ্ন ছিল নির্বাচন তফশিল ঘোষণার পূর্বে অর্থাৎ ৫ আগস্টের পরে বিএনপি নেতা আজম খানের ওপর হামলা এবং ইব্রাহীম কাজী জুয়েলের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে পরিস্থিতি কেমন হবে। উত্তরে তিনি বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে চাঁদপুরে কোনো ধরনের মব সন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না।

প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়াকে প্রশ্ন করেন এক নতুন ভোটার। তার প্রশ্ন হচ্ছে আল-আমিন একাডেমিতে তার প্রচার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা হয়। কেন এটি করা হচ্ছে। তিনি উত্তরে বলেন, বিষয়টি এমন নয়। একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানও হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন আল-আমিন একাডেমি পতিত সরকারের সময় ডাকাতদের হাতে পড়েছিলো। ৫ আগস্টের পর এটি আবার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পরিচালনা করছেন। আরেকটি প্রশ্ন ছিল জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের কয়জন শহীদ হয়েছেন। উত্তরে তিনি বলেছেন, আমাদের আমির জামায়াত এই বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে যতজন শহীদ হয়েছেন তারা সকলেই দেশের বীর সন্তান। কোনো দল হিসেবে তাঁরা চিহ্নিত হবেন না।

প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ এবং সুজন জেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেনের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।