জীবন দেব, তবুও জুলাই দেব না: লোহাগাড়ায় জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা আমাদের যাওয়ার সময় বলে গেছে— হে জাতি, তোমাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না। আমরা যে জাতির মুক্তির জন্য লড়াই করেছি, সেই জাতির মুক্তির পথ দিয়ে হাঁটবে, সুবিধাবাদীদের পথে হাঁটবে না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটায় লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রাজনীতির নোংরা রাস্তা দিয়ে আর হাঁটা যাবে না। রাজনীতির পরিষ্কার সদর রাস্তা দিয়ে, হাইওয়ে-মোটরওয়ে দিয়ে হাঁটতে হবে। আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি— ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরাও তোমাদের মতো জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২৪ না হলে কি ২৬ পাওয়া যেত? যারা ২৪ স্বীকার করে, তারাই তো ২৬-এর উত্তরসূরি। আর যারা ২৪ স্বীকার করে না, তাদের জন্য কোনো ২৬ নেই। তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ ২৬-এ লাল কার্ড।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ১২ তারিখ পথ খুঁজে পাবে। বাংলাদেশের মানুষ ইনশাআল্লাহ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না। যে যুবকদের নেতৃত্বে আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যুবকরাই বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু হয়ে জাকসুতে এসে আপাতত থেমেছে। সব জায়গায় একই চিত্র।

আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ, দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ, মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ, ব্যাংকডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ, ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই।

তিনি আরও বলেন, তারা রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে। ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ তাই হবে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম। এখন চৈত্র মাস না বৈশাখ মাস— কোন মাস? মাঘ মাস। মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়, চৈত্র মাসে কী হবে? তিনি বলেন, ভাই একটু ঠান্ডা রাখো মাথা। যেদিকে যাও, সেদিকেই মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে ওঠে। মানুষ যখন হতাশ হয় এবং নিজের ব্যর্থতার গ্লানি চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখের মধ্যে সর্ষে ফুল ঘুরতে থাকে। তখন অনেক সময় নিজের স্ত্রীকেও মা বলে সম্বোধন করে ফেলে। বাংলাদেশে এখন তাই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ যে যুবকরা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে জীবন দিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, গুলিকে পরোয়া না করে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে, এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে দেবে।

তিনি বলেন, ২৪-এর গণবিপ্লবে একবারের জন্যও কোনো যুবক বলেনি যে, তারা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করছে। তারা বলেছিল, তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং মেধা-যোগ্যতা অনুযায়ী হাতে কাজ তুলে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যুবকদের হাতে ও যুবতীদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করব না। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন তারাই গড়ে দেবে নতুন বাংলাদেশ এবং গর্ব করে বলবে, আমি বাংলাদেশ, এটা আমার বাংলাদেশ। গর্বের সঙ্গে সেদিন যুবকরা নিজেদের পরিচয় দেবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, ২৪-এর বিপ্লব সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান অপরিসীম। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে রাতে যখন মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছিল, সেদিনই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। পরদিন সেই আগুনের বিস্ফোরণ ঘটে সারাদেশে। চট্টগ্রামে একজনসহ ছয়জন জুলাই যোদ্ধা জাতির জন্য জীবন উপহার দিয়েছিল। বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয় আবু সাঈদকে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এই ছাত্র রাস্তায় নেমে বলেছিল, ‘আমার অধিকার দে, না হয় আমাকে একটা গুলি দে।’

সে ডানা মেলে বলেছিল, ‘বুকের ভেতরে তুমুল ঝড়— বুক পেতেছি, গুলি কর।’ সে বুক পেতেছিল, পিঠ দেখায়নি। বীরেরা কখনো পালায় না। বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, না হয় গুলি খেয়ে শাহাদাত বরণ করে।