পাবনায় ৬০০ বছরের পুরোনো তালপাতায় লেখা পাণ্ডুলিপির প্রদর্শনী

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  কাজী বাবলা, পাবনা

পাবনায় ভাষার মাসে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী। এতে ৬০০ বছরের বেশি সময় আগের হাতে লেখা দুর্লভ তালপাতার পাণ্ডুলিপি প্রদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া আছে শত বছরের নানা ধরনের পত্রিকা, সাময়িকী, বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, উর্দুসহ নানা ভাষার বই। শত বছর আগের দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।

দেশ-বিদেশ থেকে আসা জ্ঞানপিপাসু মানুষদের কাছে আগ্রহের বিষয় অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত পুথি আর পাণ্ডুলিপি। তালপাতা আর কাগজে লেখা এসব পুথি ও পাণ্ডুলিপি সমৃদ্ধ করেছে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিকে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হিসেবে জ্ঞানপিপাসুদের কাছে পরিচিত এ লাইব্রেরি। কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটির এখন বয়স ১৩৬ বছর। প্রায় ৩৮ হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ প্রাচীন এই অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি।

প্রতিবছরের মতো এবারও লাইব্রেরিটির উদ্যোগে ভাষার মাসে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী। লাইব্রেরির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে পাবনার প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ফিতা কেটে এই পুস্তক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

লাইব্রেরির অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খান জানান, ১৮৯০ সালে পাবনার তাঁতিবন্দের জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা উপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বংশধর অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরী পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ১৩ শতাংশ জমির ওপর লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক অবস্থায় দুই কক্ষের একটি দালানে কিছু বাংলা, সংস্কৃত আর ফারসি বই দিয়ে লাইব্রেরিটির যাত্রা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে এতে বইয়ের সংগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনের কলেবরও বাড়তে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাবনা অঞ্চলের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে এই লাইব্রেরি।

প্রাচীন পাবনা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে ৩৮ হাজারেরও বেশি বই। ১৭৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সেইন্টস এভারলাস্টিং রেস্ট’ বইটিই লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরোনো সংগ্রহ। এ ছাড়া রয়েছে বাংলা সাহিত্য, ফারসি, উর্দু, আরবি, হিন্দি, বুলগেরিয়ান, নরওয়েজিয়ান, ইতালি, রুশ, তুর্কি, চায়না, ইরানি সাহিত্য ও পালি সাহিত্যের নানা বই। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার পত্রিকা, জার্নাল, লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহে রয়েছে।

পাবনার প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের লাইব্রেরি দেশের অন্য কোথাও নেই। জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এটা একটি দর্শনীয় এবং শিক্ষণীয় গ্রন্থাগার হতে পারে। সবার উচিত এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করা।