পাবনা-৪ আসন
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০২ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শতাধিক নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শহরের কাচারিপাড়ায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতা-কর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. রাসেল পারভেজ।
লিখিত বক্তব্যে রাসেল বলেন, বিগত দিনে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীর একমাত্র আশ্রয়স্থল বলতে একটি নামই ছিল- তিনি হলেন জাকারিয়া পিন্টু। তার নেতৃত্বেই রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে জাকারিয়া পিন্টুকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, দলের হাইকমান্ড তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে এমন এক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি পূর্বে আওয়ামী লীগ করতেন এবং তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেছে। সেই ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন এবং তাদের সঙ্গে আঁতাত করে আমাদের ওপর জুলুম নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন আওয়ামী লীগ থেকে আসা হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার আওয়ামী দোসররা। যে দলের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করে রাজপথে থেকেছি, সেই দল থেকে নির্মম আচরণ পাচ্ছি। সেকারণে আমরা ব্যথিত।
তিনি আরও বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখি। তারপরও আমরা পদত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেননা, হাবিবুর রহমান হাবিবের অত্যাচারে দল করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনে দলের সব কর্মসূচিতে আমরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এ আসনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মো. জাকারিয়া পিন্টু। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের সকল পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া একই অভিযোগে স্থানীয় যুবদলের ছয় নেতাকেও বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় যুবদল।
