‘মহানন্দা নদী এখন কঙ্কাল, আমরা নদীগুলোকে জীবন্ত করে তুলবো’

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা নদী এখন কঙ্কাল। আমরা নদীগুলোকে জীবন্ত করে তুলবো। নদীমাতৃক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নদীকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা হবে। পদ্মায় যেখানে বাঁধ অথবা ব্যারেজ দিলে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা পাবে, সেখানেই ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আম সংরক্ষণ করার মতো কোনো হিমাগার নেই। উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার অভাব দূর করার ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, ‘সুষম উন্নয়নের স্বার্থে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, সেখানেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যুবক-যুবতীরা বেকার ভাতার জন্য আন্দোলন করে নাই। তারা হাতে হাতে কাজ পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। আমরা তাদেরকে ওয়াদা করছি, অঙ্গীকার করছি, তোমাদের হাতে অপমানের ওই বেকার ভাতা আমরা তুলে দেবো না। তোমাদের হাতে হাতে মিলিয়ে, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের প্রতিটি হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেবো। সেদিন তোমরা এই দেশ গড়বে, প্রস্তুত হয়ে যাও। তোমাদের জন্য আমাদের এই দেশ গড়তে হবে।’

তরুণরা দেশের ভবিষ্যতের কাণ্ডারী উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তোমাদের হাতেই আমরা এই দেশের ভার তুলে দিতে চাই। বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসবে আমাদের যুবকরা, আর আমরা বসবো পিছনের প্যাসেঞ্জার সিটে। তারাই এ দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। আমাদের পেছনে তাকানোর সময় আর নাই। সকল জাতি, ধর্ম-গোষ্ঠী, বর্ণ, সমস্ত মানুষকে বুকে ধারণ করে আমাদের এই যাত্রা শুরু, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য আমাদের স্পষ্ট অঙ্গীকার। আপনাদের বহুবিধ অবদান রয়েছে, যার একটারও প্রতিদান দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদেরকে চেষ্টা করতে হবে। আমরা দু’টি জিনিস আপনাদের জন্য নিশ্চিত করতে চাই। একটি হলো সমাজের সকল স্তরে আপনাদের অধিকার ও মর্যাদা এবং দ্বিতীয়টি হলো আপনাদের নিরাপত্তা। আজকে এই দু’টিরই অভাব।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটা সমাজ গড়তে চাই, পুরুষরা পাবে পুরুষের অধিকার, নারীরা পাবে তাদের অধিকার। কোনো জালেম আমার কোনো মা-বোন, মেয়ে কারো দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস করতে ডারবে না। সেই নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। বাংলাদেশের জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। পুরোনো মন্ধবস্থের রাজনীতি আর দেখতে চায় না। জুলাই যুদ্ধের সময় রাস্তায় নেমে বলেছিল, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস।” আমরা সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই। সেই ন্যায়বিচার আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। রাজার জন্য যে বিচার, সকলের জন্য সেই একই বিচার। একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার বা শাস্তি হবে, অন্যদিকে দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলে তাদেরও একই বিচার বা শাস্তি হবে। সেই বিচার ব্যবস্থা আমরা বাংলাদেশে কায়েম করতে চাই।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ও ডাকসুর জিএস এম.এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জনসভায় স্থানীয় জামায়াত নেতাসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে আমিরে জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং একটি ইনসাফ কায়েমের সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।